দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশের সিনান কাউন্টির দুটি ক্ষুদ্র দ্বীপ বানয়োল ও বাকজি এখন 'পার্পল আইল্যান্ড' বা বেগুনি দ্বীপ নামে পরিচিত। প্রায় ৪০০টি ভবনের ছাদ থেকে রাস্তা, টেলিফোন বুথ, সাইনবোর্ড আর বেঞ্চ পর্যন্ত সবকিছু রাঙানো বেগুনি ও লিলাক রঙে। আনজোয়াদো প্রধান ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ দুটি যুক্ত কাঠের লম্বা সেতুতে।
রংটির অনুপ্রেরণা দ্বীপের ফুল আর ফসল: স্থানীয়ভাবে জন্মানো ঘণ্টার মতো দেখতে বেগুনি বেলফ্লাওয়ার, আর বেগুন ও কোহলরাবির মতো বেগুনি ফসল। বসন্তে দিগন্তজোড়া মাঠে ফোটে ল্যাভেন্ডার, শরতে বেগুনি অ্যাস্টার।
পেছনের গল্পটি একটি দ্বীপের ঘুরে দাঁড়ানোর। বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যা আর লোকসংখ্যা কমে যাওয়ার সংকটে পড়া দ্বীপের বাসিন্দা ও স্থানীয় সরকার একে আকর্ষণীয় করে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ৩০ হাজার অ্যাস্টার ফুল আর ২১ হাজার ৫০০ বর্গমিটারজুড়ে ল্যাভেন্ডার লাগিয়ে সাজানো হয় দ্বীপ দুটি। এ উদ্যোগের স্বীকৃতিতে ২০২১ সালে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা একে বিশ্বের সেরা পর্যটন গ্রাম ঘোষণা করে।
দ্বীপের মূল আকর্ষণ প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা কাঠের 'পার্পল ব্রিজ', যা বানয়োল ও বাকজিকে যুক্ত করেছে; জোয়ারে নিচ দিয়ে পানি বয়ে যায়, ভাটায় জেগে ওঠে বিশাল কাদাচর। বেগুনি পোশাক বা অনুষঙ্গ পরে গেলে দর্শনার্থীরা বিনা খরচে দ্বীপে ঢুকতে পারেন; আছে ক্যাফে, ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ, সাইকেল ভাড়া আর ছোট হোটেল। সিউল থেকে বাস বা গাড়িতে যেতে লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা।
প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকার ফিচার ডেস্ক, ভিএন এক্সপ্রেস ও দ্য কোরিয়া পোস্ট অবলম্বনে।
ছবি: ক্রোয়েশিয়ার হভার দ্বীপে ল্যাভেন্ডার খেত (প্রতীকী), F.G. comm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)