মাদারীপুরের শিবচরে নিজের বাড়ির আট শতাংশ জমিতে ১১৪৮ প্রজাতির গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন তানজিলা আঁখি। বাগানের প্রায় ৭০ শতাংশ গাছই ইনডোর প্ল্যান্ট। ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে গাছ বিক্রি করে তাঁর মাসিক আয় এখন গড়ে দুই লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুরুটা শখ থেকে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে একা থাকার সময় ব্যালকনির কয়েকটি গাছই ছিল তাঁর সঙ্গী। ২০১৯ সালে শখের বশে গাছ কেনা শুরু করেন, ২০২২ সালে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি গাছ নিয়ে কাজে নামেন এবং ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে ৭৮ হাজার টাকায় সাকুলেন্টসহ সাত-আট প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করেছিলেন। ঢাকার মালিবাগ, পরে নরসিংদী ঘুরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সব গাছ নিয়ে বাড়িতে ফিরে বাগান গড়েন।
তানজিলা জানান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে ইনডোর প্ল্যান্টের ওপর ছয় মাসের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। বেশির ভাগ গাছ প্রথমে থাইল্যান্ড থেকে আনা, পরে নিজের বাগানে বংশবৃদ্ধি করা হয়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ফিলোডেনড্রন, অ্যাগলোনিমা, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যান্থুরিয়াম, মনস্টেরা ও ফিটোনিয়া; রঙিন ক্যাকটাস, হার্ব প্ল্যান্ট ও স্টেভিয়ারও চাহিদা আছে। তাঁর দাবি, টেট্রাস্পার্মা ওরিয়া ভেরিগেটেড জাতের যে গাছটি তাঁর বাগানে আছে, বাংলাদেশে সেটি একটিই।
তিনি বলেন, তাঁর বাগান থেকে ঢাকার বিভিন্ন করপোরেট অফিসে গাছ যায় এবং অভিজাত এলাকায় নিয়মিত ক্রেতা আছেন। বাগানে এখন প্রায় ২৫ লাখ টাকার গাছ রয়েছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পরিচর্যায় এবং আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা কুরিয়ারে গাছ পাঠানোর কাজে ব্যয় হয় তাঁর।
তানজিলার স্বামী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি স্ত্রীর সব কাজে সহযোগিতা করেন এবং সম্প্রতি ঢাকায় একটি গাছের মেলায়ও অংশ নিয়েছেন তাঁরা। ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’ নামের পেজ থেকেই বেশির ভাগ গাছ বিক্রি হয়।
বাগানের পরিধি আরও বাড়াতে চান তানজিলা, সামনে অর্কিড নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও আছে। শহরের অফিস ও বাসায় সাজানোর গাছের চাহিদা বাড়ায় বাড়ির আঙিনায় নার্সারি গড়ে তোলা গ্রামের উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা একটি উদাহরণ।
প্রতিবেদনটি করেছেন বাংলা নিউজ ২৪-এর ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ইমতিয়াজ আহমেদ।
ছবি: টবে অ্যাগলোনিমা, Sigit Jati / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)