দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থমন্ত্রী এনোখ গোডোংওয়ানা (Enoch Godongwana) ২১ অক্টোবর পার্লামেন্টে ২০২৬ সালের মধ্যমেয়াদি বাজেট নীতি বিবৃতি (এমটিবিপিএস) পেশ করেছেন। এতে ডিজেলে সাময়িক শুল্ক ছাড়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিয়োগে বাড়তি টাকা আর জরুরি তহবিল বাড়ানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির কৃষি সংগঠনগুলো। তবে তাদের কথা, বাস্তবায়নেই বোঝা যাবে এর মূল্য। ফার্মার্স উইকলির হয়ে খবরটি দিয়েছেন জ্যোতি লালদাস (Jyothi Laldas)।
৪ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ জ্বালানি শুল্ক ডিজেলে লিটারপ্রতি ৩ র্যান্ড আর পেট্রলে দেড় র্যান্ড কমবে; এরপর ৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ছাড় থাকবে ডিজেলে দেড় র্যান্ড ও পেট্রলে ১ র্যান্ড। গ্রীষ্মের দানাশস্য বপন আর গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনের মৌসুমের মুখেই এই ছাড় আসছে। কৃষি ব্যবসায়ীদের সংগঠন অ্যাগবিজের (Agbiz) প্রধান নির্বাহী থিও বসহফ (Theo Boshoff) জানান, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিপণ্য সড়কপথে চলে, তাই জ্বালানি সস্তা হলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে খরচ কমে।
বিবৃতিতে ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৬ থেকে কমিয়ে ১.২ শতাংশ করা হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা। মন্ত্রী সতর্ক করেছেন, এল নিনো উৎপাদন খরচ আর উৎপাদন দুটোতেই আঘাত হানতে পারে। জরুরি তহবিল বাড়িয়ে ১,০০০ কোটি র্যান্ড করা হয়েছে, যদিও তা শুধু কৃষির জন্য নয়। অ্যাগবিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ ওয়ান্ডিলে সিহলোবো (Wandile Sihlobo) বলেন, ২০২৭ সালে এল নিনোর প্রভাব মেপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই তহবিল থেকে সাহায্য দিতে হবে।
তিন বছরে বাড়তি ১৫০ কোটি র্যান্ড যাবে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিয়োগে, যাঁদের পরামর্শ সবচেয়ে কাজে লাগে বেসরকারি পরামর্শকের নাগাল না পাওয়া নতুন কৃষকদের। সিহলোবো বলেন, রাষ্ট্রীয় জমি নতুন কৃষকদের হাতে যত যাবে, তাঁদের সহায়তার সক্ষমতাও তত বাড়াতে হবে। কেপিএমজি সাউথ আফ্রিকার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্র্যাংক ব্ল্যাকমোর (Frank Blackmore) মনে করেন, জ্বালানি ছাড় আর সম্প্রসারণ বরাদ্দ মিলে খাদ্য সংকট ঠেকাতে সাহায্য করবে।
কৃষক সংগঠন অ্যাগ্রিএসএর (AgriSA) প্রধান নির্বাহী ইয়োহান কোটজে (Johann Kotze) খুরারোগের (এফএমডি) টিকা কেনায় আগের বছর থেকে টেনে আনা ১৮ কোটি ৩০ লাখ র্যান্ড, বন্যায় ভাঙা কৃষি অবকাঠামো মেরামতে ২৪ কোটি ২০ লাখ র্যান্ড এবং জাতীয় ও প্রাদেশিক সড়ক মেরামতে ১৪৬ কোটি র্যান্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, খুরারোগ ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নয়, টানা অর্থায়নের টিকা ও জৈবনিরাপত্তা কর্মসূচি দরকার। টিএলইউ এসএর (TLU SA) মহাব্যবস্থাপক বেনি ফান জাইল (Bennie van Zyl) বলেন, খুরারোগ বা গ্রামীণ নিরাপত্তায় নতুন কোনো বরাদ্দ নেই; সরকারের নিজের পর্যালোচনাতেই দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রদেশ ও পৌরসভাকে দেওয়া ৮৮,৭০০ কোটি র্যান্ডের অবকাঠামো অনুদানের প্রকল্প প্রায়ই দেরিতে, অসম্পূর্ণ বা অকার্যকর থেকেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩.৯ শতাংশে নামবে বলে আশা, আর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০২৭ সালে ১.৬ ও ২০২৯ সালের মধ্যে ২ শতাংশ। কোটজে মনে করিয়ে দেন, ২০১২ সাল থেকে কৃষি বছরে গড়ে ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে, যেখানে পুরো অর্থনীতি বেড়েছে ১ শতাংশ হারে।
ছবি: PhilippN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)