যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে নতুন স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) চুক্তিতে সব মিলিয়ে স্কটল্যান্ডের কৃষির লাভই হবে বলে মনে করছে কৃষক সংগঠন এনএফইউ স্কটল্যান্ড, তবে মাইকোটক্সিনের সীমা, পশু শনাক্তকরণ ও পশুস্বাস্থ্যের নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ফার্মার্স উইকলি জানিয়েছে, ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্মেলনে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এতে উদ্ভিদ ও প্রাণিস্বাস্থ্য, প্রাণিকল্যাণের কিছু দিক, জৈব পণ্য ও খাদ্যের লেবেলিংয়ে গ্রেট ব্রিটেন ইইউর নিয়ম মেনে চলবে।
সংগঠনটির নীতি ব্যবস্থাপক কেট অ্যাডামস (Kate Adams) এক ব্লগে লিখেছেন, চুক্তিতে স্কটল্যান্ডের লাল মাংস ও দুগ্ধপণ্য রপ্তানির বাধা ও খরচ কমবে এবং ইইউতে বীজ আলু রপ্তানি আবার চালু হবে। উৎপত্তিস্থলের লেবেল আরও স্পষ্ট হওয়া এবং সমমানের উৎপাদন মানদণ্ড না মানা ব্রাজিলীয় মাংস আমদানি থেকে সুরক্ষাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা স্কটল্যান্ডের ওট চাষিদের। খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাত করার দানাশস্যে কয়েকটি মাইকোটক্সিনের (ছত্রাকজাত বিষ) আইনি সর্বোচ্চ সীমা ইইউতে গ্রেট ব্রিটেনের চেয়ে কম। যুক্তরাজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলকে এখনো এই নিম্ন সীমায় পরীক্ষা করতে হয়নি, তাই প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। স্কটল্যান্ডের ভেজা ও মৃদু আবহাওয়ায় ওটে এই বিষের ঝুঁকি বেশি হতে পারে, তাই সংগঠনটি নমনীয়তা আর মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় চায়।
গবাদিপশুর জন্য অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের ইলেকট্রনিক শনাক্তকরণ (ইউএইচএফ-ইআইডি) চালুর দাবি সংগঠনটি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে করছে, আর তাদের মতে ইইউর আইনে তা সম্ভব। পশুস্বাস্থ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার, গরুর যক্ষ্মা ও বার্ড ফ্লু নিয়ে ইইউর কড়া নিয়মেও তাদের আপত্তি আছে; যুক্তরাজ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার কম বলে এ বিষয়ে বাড়তি মিল আনার দরকার নেই বলে মনে করে তারা।
কেট অ্যাডামস লিখেছেন, "এসপিএস চুক্তির সম্ভাবনা আমরা স্বীকার করি, তবে এর সুফল যেন স্কটল্যান্ডের কৃষি ও ক্ষুদ্র খামারের বাস্তবতার বিনিময়ে না আসে।"
ছবি: Chris Andrews / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)