ইসরায়েলি খাদ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপ মিলা (Meala) ফ্রান্স ও জার্মানির দুটি কারখানায় তাদের মটর-প্রোটিনের পূর্ণমাত্রার উৎপাদন শুরু করেছে। এতে উৎপাদনক্ষমতা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী বছর থেকে এই প্রোটিন বছরে ১,৪০০ টন, অর্থাৎ দিনে ৮২,০০০ ডিমের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
মিলা নিজস্ব ভৌত ও এনজাইমভিত্তিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিনকে এমনভাবে বদলে দেয় যে তা উপকরণ জোড়া লাগায়, জেল ও ফেনা তৈরি করে, তেল-পানি মেশায় এবং পানি ধরে রাখে। এ কাজগুলো সাধারণত ডিম বা হাইড্রোকলয়েডের মতো সংযোজক করে। সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হাদার একহোইজ-রাজমোভিচ (Hadar Ekhoiz-Razmovich) গ্রিন কুইনকে বলেন, চার বছরে তাঁরা গবেষণাগারের অল্প পরিমাণ থেকে শিল্প উৎপাদনে পৌঁছেছেন।
তাদের পণ্য তিনটি: কেক, মাফিন, ওয়াফল, ব্রিওশ ও প্যানকেকের জন্য অ্যালার্জেনমুক্ত ডিমের বিকল্প গ্রাউন্ডবেকার; উদ্ভিজ্জ মাংসের জন্য স্যাভরি; আর সস ও ড্রেসিংয়ের জন্য অ্যাড্রেসিং। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্রোটিনে তৈরি প্রথম উদ্ভিজ্জ মাংসপণ্য ইউরোপের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ডিএসএম-ফিরমেনিখ ও লাসেনরের মাধ্যমে এসব উপকরণ বিক্রি হয়।
বার্ড ফ্লু ও রানীক্ষেত রোগে ডিমের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে গত বছর ইউরোপে ডিমের দাম এক দশকের সর্বোচ্চে ওঠে। এর মধ্যেই এই সম্প্রসারণ। মিলার দাবি, ডিমভিত্তিক রেসিপির তুলনায় স্পঞ্জ কেকের উপকরণ খরচ ৪০ শতাংশের বেশি কমাতে পারে তাদের প্রোটিন, তরল ডিম ঠান্ডা রাখার ঝামেলাও থাকে না। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধৃত এক স্বাধীন জীবনচক্র মূল্যায়ন অনুযায়ী, ডিমের গুঁড়ার তুলনায় প্রতি কেজি প্রোটিনে কার্বন নিঃসরণ ৬৩ শতাংশ এবং পানির ব্যবহার ৯৬ শতাংশ কম।
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত মিলা এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ডলার তুলেছে এবং সিরিজ এ পর্বের তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের প্রোটিন নতুন খাদ্য হিসেবে গণ্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব মূল্যায়নে নিরাপদ ঘোষিত। এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে (এফডিএ) আবেদন জমা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Renee Comet / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Green Queen




মন্তব্য
(০)