খামারির আয় না কমিয়ে কীভাবে গবাদিপশুর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো যায়, সেই একই প্রশ্নের দুই দিক নিয়ে কাজ করছেন নাইরোবিতে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইএলআরআই, ILRI) দুই তরুণ গবেষক। ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি এই খবর জানিয়েছে।
ভারতের জৈবপ্রযুক্তির পিএইচডি শিক্ষার্থী অর্চিত মহাপাত্র (Archit Mohapatra) ২০২৬ সালের মে মাসে আইএলআরআইয়ের মাজিঙ্গিরা কেন্দ্রে লো-মিথেন ফরেজ প্রকল্পে যোগ দেন। গবেষণাগারে তিনি স্থানীয় ডালজাতীয় পশুখাদ্য কতটা হজম হয়, কতটা মিথেন তৈরি করে এবং পাকস্থলীর যে জীবাণু মিথেন তৈরি করে তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা পরীক্ষা করছেন। লক্ষ্য এমন খাদ্য খুঁজে পাওয়া, যাতে ভেড়ার উৎপাদন ঠিক থাকে অথচ নিঃসরণ কমে। তাঁর কথায়, "উৎপাদন বাড়িয়ে মিথেন কমানো গেলে পরিবেশ ও খামারি দুই পক্ষেরই লাভ।"
মোজাম্বিকের কৃষি প্রকৌশলী এগাস জোসে আরমান্দো (Egas José Armando) রুয়ান্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট অব থিংস নিয়ে পিএইচডি করছেন। জুনে পাঁচ মাসের জন্য আইএলআরআইয়ে এসে তিনি কেন্দ্রের বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের জন্য একটি সেন্সরভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করছেন। প্ল্যান্টটি গোবর থেকে রান্নার গ্যাস আর জৈব সার তৈরি করে। নতুন ব্যবস্থা নিজে থেকেই তাপমাত্রা, চাপ ও গ্যাসপ্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করে এক ড্যাশবোর্ডে দেখাবে। আরমান্দো বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর বিনিময়ে ক্রেডিট দাবি করতে হলে পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাই নির্ভুল ও স্বচ্ছ হতে হবে।
দুজনই ক্লিফ-গ্র্যাডস বৃত্তির ফেলো। কৃষিখাতের গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ে কাজ করা গ্লোবাল রিসার্চ অ্যালায়েন্স ও সিজিআইএআরের জলবায়ু কর্মসূচির এই বৃত্তি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের গবেষকদের গবেষণাগার ও পরামর্শকের সুযোগ দেয়। আইএলআরআই জানায়, বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের জীবিকা গবাদিপশুর ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনটি লিখেছেন গ্রেস ওদুওর।
ছবি: SuSanA Secretariat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ILRI




মন্তব্য
(০)