সেচবিহীন ভুট্টার জমিতে গোবর সার প্রয়োগের সুপারিশ হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক্সটেনশন (University of Minnesota Extension)। উদ্দেশ্য, ফসলের যতটা নাইট্রোজেন দরকার কৃষক যেন ঠিক ততটাই দেন। বেশি দিলে খামারের সম্পদ নষ্ট হয় এবং পানি দূষণের ঝুঁকি বাড়ে।
এক্সটেনশনের গোবর-পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মেলিসা উইলসন (Melissa Wilson) জানান, নতুন হিসাবের ভিত্তি মিনেসোটাজুড়ে গত ২০ বছরের নাইট্রোজেন গবেষণা, যাতে ২৩০টির বেশি মাঠ পরীক্ষা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, আগের মৌসুমে জমিতে কী ফসল ছিল এবং মাটি নিজে কতটা নাইট্রোজেন জোগায়, তার ওপর ভুট্টার চাহিদা বদলায়।
আগে প্রতি বুশেল ভুট্টার জন্য একটানা ১.২ পাউন্ড নাইট্রোজেন ধরা হতো। নতুন নির্দেশিকায় আগের ফসল অনুযায়ী আলাদা হিসাব: সয়াবিনের পরে ভুট্টা হলে অতীত গড় ফলনের প্রতি বুশেলে ০.৭ পাউন্ড, আর ভুট্টার পরে ভুট্টা হলে ০.৯ পাউন্ড। এই গুণফলই একর প্রতি গোবর ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট কতটা গ্রহণযোগ্য নাইট্রোজেন লাগবে তা জানায়।
অতীত গড় ফলন মানে জমিটির শেষ পাঁচ ভুট্টা মৌসুমের গড়। রেকর্ড না থাকলে মার্কিন কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান সংস্থা এনএএসএস-এর কাউন্টিভিত্তিক পাঁচ বছরের গড় ধরা যায়। খরা বা বন্যায় কোনো বছর ফলন বিপর্যস্ত হলে তার বদলে আগের এক বছরের ফলন ধরা চলে। সাইলেজ ভুট্টার ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ আর্দ্রতায় একর প্রতি টন ফলনকে ৭.৫ দিয়ে গুণ করে দানার সমতুল্য ফলন বের করে তারপর একই হিসাব করতে হয়।
এক্সটেনশন বলছে, রাসায়নিক সারের জন্য ব্যবহৃত সর্বোচ্চ নাইট্রোজেন-ফেরত পদ্ধতি গোবরের বেলায় সরাসরি খাটে না, কারণ খামারভেদে গোবরের পুষ্টিমান ও খরচ আলাদা।
ফসফরাসের দিকেও নজর রাখতে হবে। বারবার গোবর দিলে মাটিতে ফসফরাস ফসলের প্রয়োজনের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে, তাই ফসল তোলায় যতটা ফসফরাস চলে যায় সেই হিসাবে মাত্রা ঠিক করলে ভারসাম্য থাকে। মাটি পরীক্ষা ও গোবরের পুষ্টি বিশ্লেষণে গাছের গ্রহণযোগ্য নাইট্রোজেন ও ফসফরাস অনুমান করা যায়। আগের দুই বছরে দেওয়া স্টার্টার সার, সেচের পানি, ডালজাতীয় ফসল এবং গোবর বা অন্য জৈব উপাদানের নাইট্রোজেনও হিসাবে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: werktuigendagen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)