চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়াসহ আশপাশের উপজেলায় ধানসহ নানা ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় বা ঘন ঘন বালাইনাশক দেওয়ার অভিযোগও আছে, তাতে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সময়।
কৃষকদের অভিযোগ, আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কীটনাশক দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে পোকা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। তাড়াশের লাউতা গ্রামের কৃষক আশরাফুল বলেন, আগে একবার কীটনাশক দিলেই কাজ হতো, এখন তিনবার দিয়েও মাজরা ও ফুতি পোকা দমন হচ্ছে না। জমিতে আগের মতো সাপ, ব্যাঙ, পাখি ও উপকারী প্রাণী চোখে পড়ে না; ক্ষতি জেনেও ধান বাঁচাতে কীটনাশক দিতে হচ্ছে।
উত্তর শ্যামপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, দিন দিন সারের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে; একদিকে সারের সংকট, অন্যদিকে দাম বেশি। টারোটিয়া গ্রামের রাজ্জাক জানান, গত বছর বিঘাপ্রতি দুই মণ সার দিয়েছিলেন, এবার এ পর্যন্ত প্রায় দেড় মণ দিয়েছেন, আরও দিতে হবে। মাজরা পোকা ঠেকাতে তিনবার কীটনাশক দিয়েছেন, আবারও দিতে হবে বলে মনে করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিত বালাইনাশক মাটির উপকারী অণুজীব ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, আর কার্যকারিতা কমে গেলে কৃষককে আরও বেশি টাকা খরচ করে বেশি কীটনাশক দিতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো, ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তাঁরা।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য, উপকারী জীবাণু ও পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে, তাই নিরাপদ ও সঠিক নিয়মে বালাইনাশক ব্যবহার জরুরি। কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) মেনে চলা, জৈব সার ব্যবহার ও মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি, আর কীটনাশক দেওয়ার আগে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীর পরামর্শ নিতে বলেন।
প্রতিবেদন: চলনবিল সংবাদদাতা, কৃষি সময়
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)