খরার কারণে উত্তর মহারাষ্ট্রের আঙুরচাষিরা অন্তত ৪০ শতাংশ ফলন হারানোর আশঙ্কা করছেন, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। নাশিক জেলায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মৌসুমে স্বাভাবিকের মাত্র ৩৪.৩ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে বাজরা ও পেঁয়াজসহ খরিফ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
পিম্পালগাঁও বসওয়ন্তের ৫৯ বছরের আঙুরচাষি বসন্তরাও ধিকালে পাঁচ একরে আঙুর চাষ করেন। তিনি জানান, বর্ষার শেষে জলাধার এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় পুকুর ভরেছে, তাতে ডিসেম্বর-জানুয়ারির ফসল পর্যন্ত লতা বাঁচানো যাবে। কিন্তু খরা ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ালে কী হবে, তা অনিশ্চিত; তাঁর বাগান হয়তো সেই গ্রীষ্ম পার করতে পারবে না।
মহারাষ্ট্র রাজ্য আঙুরচাষি সমিতির সভাপতি কৈলাস ভোসলে বলেন, সোলাপুর ও সাংলিতে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ; সেখানে কেউ কেউ এ বছর ফসলই তুলতে পারবেন না। সাংলিতে গত সপ্তাহে প্রায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা না কমায় বাষ্পীভবনে মাটির আর্দ্রতা শুকিয়ে যাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, সেচ কর্তৃপক্ষ পানি খাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করতে পারে, আর এল নিনো ও শুষ্ক শীতের পূর্বাভাসে ফসলে পানি বেশি লাগবে। আগের খরায় সরকার বাগান বাঁচাতে সীমিত পানি দিয়েছিল; 'এবারও তেমন সহায়তা লাগতে পারে,' বলেন তিনি।
আঙুরবাগান হারানো ব্যয়বহুল। ভোসলের কথায়, 'বাগান শুকিয়ে গেলে নতুন করে লাগাতে একরপ্রতি অন্তত ৫ লাখ রুপি লাগে, আর প্রথম ফসল পেতে অন্তত চার বছর।' সমিতির হিসাবে মহারাষ্ট্রের আঙুর খাতে প্রায় ১৭ লাখ কৃষক ও কৃষিশ্রমিক যুক্ত।
পেঁয়াজের চিত্র আবার উল্টো হতে পারে। নাশিকভিত্তিক মহারাষ্ট্র রাজ্য পেঁয়াজচাষি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ভারত দিঘোলে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পেঁয়াজে পোকা ও রোগ কম হয়, অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় পচন ধরে; তাই ক্ষতি পোষাতে কেউ কেউ পেঁয়াজের আবাদ বাড়াতে পারেন। আঙুরচাষি রাওসাহেব উগালে জানান, নদী বা পুকুরের কাছে যাঁদের জমি, কেবল তাঁরাই পেঁয়াজ চাষে সুবিধাজনক অবস্থায়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডাউন টু আর্থের হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
ছবি: Savitr1915 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)