আজকের পত্রিকায় লেখা কলামে বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল বলছেন, যে এলপিজি একসময় পাইপলাইনের গ্যাসের নির্ভরযোগ্য বিকল্প ছিল, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে তা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বোঝা হয়ে উঠেছে। এই লেখার মতামত লেখকের নিজের।
লেখক হিসাব দিয়েছেন, ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা করেছে। অক্টোবরে দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে বেড়েছে ৪৭৫ টাকা, আর সরকারি দাম এই প্রথম দুই হাজার টাকা ছাড়াল।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব তিনি অস্বীকার করেন না। বেসরকারি এলপিজির বড় অংশ আমদানিনির্ভর, প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, ডলারের হার ও পরিবহন খরচ দেশের দামে প্রভাব ফেলে। তবে তাঁর যুক্তি, নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের ফারাকই আরেক বড় সমস্যা। দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, বাজারে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের কথা এসেছে।
লেখক একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, প্রমাণ ছাড়া সব মূল্যবৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের ফল বলা ঠিক নয়। কোথায় প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে আর কোথায় বাজারের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে, তা স্বচ্ছভাবে চিহ্নিত করা দরকার। সিলিন্ডারের ওজন, মেয়াদ ও ভালভের মান নিয়মিত পরীক্ষার কথাও তিনি বলেন, কারণ ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তাঁর মতে, একটি সিলিন্ডারে দুই হাজার টাকার বেশি গেলে পরিবারকে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা বা পুষ্টির বরাদ্দ কমাতে হয়। তাই এটি শুধু জ্বালানির নয়, জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্ন। প্রতিকার হিসেবে তিনি নিয়মিত বাজার তদারকি, প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা ও রসিদ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত অভিযানের প্রস্তাব করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



মন্তব্য
(০)