জৈব কৃষি উপকরণের বাজার বাড়ছে দ্রুত, কিন্তু একদিকে মানের ধারাবাহিকতার পরীক্ষা, অন্যদিকে দামের লড়াই। এজিফান্ডনিউজের অতিথি কলামে গুস্তাভো মামাও (Gustavo Mamao) আগামী ১০ বছরের জন্য চারটি সম্ভাব্য চিত্র এঁকেছেন। এই মত লেখকের নিজের। দুই দশক আগে তিনি একটি জৈব বালাই দমন প্রতিষ্ঠান গড়েন, যা ১০ বছর পর কিনে নেয় স্টলার; এখন ব্রাজিলের চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক আইডিল্যাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বিষয়ে পরামর্শ দেন।
লেখক প্রথমে বাজারের শক্তি ও দুর্বলতা দুটোই বলেছেন। ডানহ্যাম ট্রিমারের হিসাবে এই খাতে প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের, কোনো কোনো ফসল ও অঞ্চলে এটি এখন মূলধারার চর্চা। কিন্তু জৈব পণ্য রাসায়নিকের চেয়ে কম স্থিতিশীল; কারখানা থেকে মাঠে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সক্রিয়তা নষ্ট হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ পণ্যগুলোতে কয়েক ডজন, এমনকি কয়েক শ প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করে, ফলে কৃষকের সিদ্ধান্ত অনেক সময় সম্পর্ক ও সবচেয়ে কম দামের ওপর দাঁড়ায়।
তাঁর চিত্রগুলো দুটি অনিশ্চিত বিষয়ের ওপর দাঁড়ানো। এক, মেটাবোলাইট, প্রোটিন ও পেপটাইড, জিনগতভাবে পরিবর্তিত অণুজীব ও আরএনএআই প্রযুক্তি সত্যিই কার্যকারিতা বাড়াতে পারবে কি না। দুই, এগুলো প্রচলিত উৎপাদন, বিতরণ ও প্রয়োগব্যবস্থায় কতটা খাপ খাবে।
প্রথম চিত্রে দুটোই সফল: জৈব পণ্য বড় পরিসরে মূলধারায় আসে, লাভবান হয় ভিন্নধর্মী প্রযুক্তি ও বাজারের নাগাল যাদের হাতে আছে। দ্বিতীয় চিত্রে প্রযুক্তি কাজ করে কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থায় খাপ খায় না, তখন দুই ধরনের বাজার তৈরি হয় এবং সেতুবন্ধের কাজ করা বিশেষায়িত উৎপাদকেরা এগিয়ে যান।
তৃতীয় চিত্রে উন্নতি হয় ধীরে, পণ্য সহজে প্রচলিত তালিকায় ঢুকে পড়ে, তবে লড়াই সরে যায় দাম, ব্র্যান্ড ও প্যাকেজ বিক্রিতে; এতে বড় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা। চতুর্থ চিত্রে ফল অনিয়মিত ও বাজারজাতকরণ ব্যয়বহুল থেকে যায়, জৈব পণ্য টিকে থাকে নির্দিষ্ট ফসল, অঞ্চল ও সমস্যাকেন্দ্রিক ছোট ছোট বাজারে।
মামাওর পরামর্শ একেক পক্ষের জন্য একেক রকম। বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ হবে সংহতকরণ, সঙ্গে কৃষককে পণ্যের কাজের ধরন শেখানো। দুই কোটি ডলারের বেশি আয়ের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে হবে, নইলে দামের ফাঁদে পড়বে। আর স্টার্টআপদের পুঁজির সংকটের মধ্যেই প্রমাণ করতে হবে তাদের পণ্য ভালো কাজ করে।
বড় উপকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, তাদের দ্বিধার কারণেই ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাজার ভাগ করতে হচ্ছে এবং নতুন প্রতিযোগীরা বাড়ছে। তিনি কোম্পানিগুলোকে নিজেদের মতো করে এই অনুশীলন করতে এবং পণ্যের অর্থনীতি ও স্টার্টআপের অগ্রগতির মতো আগাম সংকেত নজরে রাখতে বলেন।
কৃষকের জন্য মূল প্রশ্ন, পরের প্রজন্মের জৈব পণ্য মাঠে আরও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করবে কি না। মামাও কোনো পূর্বাভাস দেননি, উত্তর খোঁজার একটি পথ দেখিয়েছেন মাত্র।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ




মন্তব্য
(০)