৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন, কপ ৩১ অনুষ্ঠিত হবে। তুরস্ক সভাপতিত্ব করবে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম আলোয় প্রকাশিত কলামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর প্রশ্ন তুলেছেন, এই সম্মেলন আগের অসম্পূর্ণ অঙ্গীকারের ওপর আরেকটি স্তর হবে, নাকি বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল ২০০৯ সালে। ওইসিডির হিসাবে তা প্রথম অতিক্রম করে ২০২২ সালে, ১১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। এই বিলম্ব উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের আস্থার সংকটকে স্পষ্ট করেছে।
২০২৪ সালের বাকু সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক হয়। লেখকের মতে, অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছে এই অঙ্ক অপর্যাপ্ত, আর ঋণনির্ভর সহায়তা ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ঋণের বোঝা বাড়াতে পারে। তাই অনুদান, স্বল্প সুদের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ২০২৫ সালের মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, বিদ্যমান নীতি চলতে থাকলে শতাব্দীর মধ্যে উষ্ণতা প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। ঘোষিত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলেও তা থাকতে পারে ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে।
বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, অথচ লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরা কৃষি ও জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ২০২৫ সালের এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে স্বাভাবিক প্রবণতার তুলনায় ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে, যার ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশই আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
লেখকের পরামর্শ, বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়ন, অনুদানের অগ্রাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের পক্ষে। তিনি দক্ষ সেচ ও জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষির কথাও বলেছেন। এই মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: U.S. Department of State / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)