খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের নতুনপাড়ার দুর্গম এলাকায় মসংতৈছা নামের একটি পাহাড়ি খুম ও ছড়া এখন পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে, এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মো. বেলায়েত হোসেন। সমকালের মতামত পাতায় প্রকাশিত তাঁর লেখার মূল কথা এখানে সংক্ষেপে দেওয়া হলো। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক জানান, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ককবরক ভাষায় ‘মসংতৈছা’ মানে বনের মধ্যে দুই ভাগ হয়ে যাওয়া সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝের নির্জন জায়গা, যেখানে ঝিঁঝিঁ পোকা ও নানা প্রাণীর ডাক শোনা যায়। জায়গাটি অনেকটা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির দেবতাখুমের মতো। স্থানীয় চন্দ্রমোহন ত্রিপুরার মতে, এটি এলাকাবাসীর তীর্থস্থান; প্রতি বৃহস্পতিবার সেখানে পূজা হয়।
দুই বছর ধরে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। আশপাশে দোকান নেই বলে অনেকে খাবার সঙ্গে আনেন, কেউ কেউ সেখানেই রান্না করেন। কিন্তু খাওয়ার পর পলিথিন, প্লাস্টিক বোতলসহ অপচনশীল বর্জ্য সেখানে থেকে যায়, যা ঝিরি থেকে ছড়া, ছড়া থেকে খাল হয়ে নদীতে পৌঁছায়।
লেখকের যুক্তি, এই পানিই পাহাড়ি জনপদের বেশির ভাগ মানুষের খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান উৎস। পলিথিন থেকে আসা মাইক্রোপ্লাস্টিক পানি থেকে সরাসরি বা খালের মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে যাচ্ছে। কাদায় আটকে থাকা পলিথিন গাছের শিকড়ে জড়িয়ে গাছের বৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে, আর হইচইয়ে বনের প্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয় হারাচ্ছে।
এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা কয়েক দফায় সেখানে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও মানুষ যাচ্ছেন বলে লেখক জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মসংতৈছার মতো ছড়াগুলোই নদীর উৎস, আর ঝিরি-ছড়া ধ্বংস হওয়ায় নদী প্রাণ হারাচ্ছে।
লেখকের আহ্বান, তিন পার্বত্য জেলার এমন অস্বীকৃত সুন্দর জায়গাগুলোতে ভ্রমণের সময় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আচরণ এড়ানো এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
ছবি: ANKAN GHOSH DASTIDER / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)