বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তি ও উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু সেই অগ্রগতির সুফল কৃষকের জীবনে কতটা পৌঁছেছে, এ প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র কৃষিবিদ, প্রাবন্ধিক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ডিআরপি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. রাধেশ্যাম সরকার। জাগো নিউজের মতামত পাতায় প্রকাশিত তাঁর কলামের মূল কথা এখানে সংক্ষেপে দেওয়া হলো। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, নীলচাষবিরোধী প্রতিরোধ ও তেভাগা আন্দোলনের মতো সংগ্রাম ছিল জমি, ফসল ও জীবিকার ওপর ন্যায্য অধিকারের জন্য। আজ আধুনিক বীজ, যন্ত্র, সেচ, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি ও বিগ ডেটার মতো প্রযুক্তিতে মাটি বিশ্লেষণ, সারের মাত্রা ঠিক করা ও ছবি দেখে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তবু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রম ও পরিবহনের খরচ বাড়লেও ফসলের দাম অনেক সময় খরচের সঙ্গে মেলে না, আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাজারে দাম বাড়ার সুফল কৃষকের হাতে আসে না।
তাঁর মতে, প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু বড় ও সচ্ছল কৃষকের কাছে সীমাবদ্ধ না থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মাঠকর্মীদের মাধ্যমে সহজ ও সময়মতো পরামর্শ, স্মার্টফোনভিত্তিক সেবা, মাটির স্বাস্থ্যের তথ্য ও স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সামর্থ্য মাথায় রেখে পৌঁছাতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কৃষকের দায় সামান্য হলেও খরা, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির বড় অংশ তাঁকেই বইতে হয়, লিখেছেন তিনি। তাই জলবায়ুসহিষ্ণু জাত, পানি ও মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কবার্তা, কৃষিবিমা এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঋণ পুনর্বিন্যাস দরকার।
ফসল কাটার পরপরই কম দামে বেচার চাপ কমাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক গুদাম, হিমাগার, সংগ্রহকেন্দ্র ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং শক্তিশালী কৃষক সমবায় ও উৎপাদক সংগঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন লেখক, যাতে কৃষক মিলে উপকরণ কেনা, সংরক্ষণ ও বিপণন করতে পারেন।
লেখকের মতে, কৃষি কতটা আধুনিক হলো তার পাশাপাশি কৃষকের আয়, শ্রমের মর্যাদা ও জীবিকার নিরাপত্তা কতটা বাড়ল, সেটিই উন্নয়নের আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)