মূল্যস্ফীতির চাপে সংসারের হিসাব যখন মিলছে না, তখন মায়ের মাটির ব্যাংকের পুরোনো শিক্ষার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতির লেখক শোয়েব সাম্য সিদ্দিক। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে তিনি লিখেছেন, তাঁর মা সংসার খরচ থেকে প্রতিদিন যা সামান্য বাঁচত, মাটির ব্যাংকে ফেলতেন, আর তিন মাস পরপর তা ভেঙে সংসারের দরকারি জিনিস কিনতেন; ঋণ করতে হয়নি। লেখার উপলক্ষ ৩১ অক্টোবরের বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস, যা ১৯২৪ সালে ইতালির মিলানে প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেসে ঘোষিত হয়েছিল।
লেখকের দেওয়া হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যা ১০০ টাকায় মিলত, এ বছর সেপ্টেম্বরে তার দাম ১০৮ টাকা ৩৪ পয়সা; মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশ, অথচ একই মাসে জাতীয় গড় মজুরি বেড়েছে ৭.৯০ শতাংশ। সাড়ে চার বছর ধরে মজুরি বৃদ্ধি দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। রাজশাহীর মতো শহরে মাসে ৩০ হাজার টাকার সংসারে একই জিনিস কিনতে এখন লাগে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বাড়তি চাপ।
এই চাপের পেছনে তিনি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কথা বলেছেন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে উঠেছে, আর ২০ সেপ্টেম্বর দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে, যার বাড়তি পরিবহন খরচ শেষে চাল, ডাল, সবজির দামে গিয়ে পড়ে। সঞ্চয়ের চিত্রও তুলে ধরেছেন তিনি: গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা, কিন্তু নতুন অর্থবছরের জুলাইয়ে তা উঠেছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকায়। তাঁর মতে, এর পেছনে সুদের হারের চেয়ে অনিশ্চয়তার ভয় বেশি কাজ করছে।
লেখক স্পষ্ট করেছেন, মিতব্যয়িতা আর অভাবে খরচ কাটা এক নয়; দিনমজুর, রিকশাচালক বা ছোট দোকানির জন্য আগে দরকার ন্যায্য আয়, কাজ এবং সাশ্রয়ী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। তবে যাঁর সামর্থ্য আছে, তাঁর জন্য তাঁর পরামর্শ: আয় হাতে এলে আগে সঞ্চয়ের অংশ আলাদা করুন, তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমান জরুরি তহবিল রাখুন, অপ্রয়োজনীয় ঋণ এড়িয়ে চলুন, সব টাকা এক খাতে রাখবেন না, অস্বাভাবিক লাভের প্রস্তাবে থেমে হিসাব করুন এবং বিয়ে বা উৎসবে সামর্থ্যের বাইরে খরচ না করে সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অর্থ রাখুন।
রাষ্ট্রের দায়ের কথাও বলেছেন তিনি। সরকার এ বছর সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়েছে; এর পাশে সাধারণ মানুষের জন্য গ্রামে সহজ ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সঞ্চয়, শিশু-কিশোরদের সঞ্চয় প্রকল্প আর স্কুলে আর্থিক সাক্ষরতার মতো নিরাপদ বিকল্প চান তিনি, সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের ব্যয়েও একই শৃঙ্খলা।
লেখকের প্রশ্ন, এ মাসে আমি কত টাকা আগামীর জন্য আলাদা করলাম? তাঁর মতে, উত্তর যত ছোটই হোক, সেটাই একটি সংসারের সাহসের শুরু। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Shakibul Alam Risvy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)