ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, হাজারো রোগী হাসপাতালে, অথচ চিকিৎসায় ব্যবহৃত নরমাল স্যালাইন খুঁজতে স্বজনদের এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটতে হচ্ছে। সারাবাংলায় প্রকাশিত কলামে সাংবাদিক ও কলামিস্ট মীর আব্দুল আলীম একে শুধু একটি পণ্যের ঘাটতি নয়, জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত জাতীয় প্রশ্ন বলে লিখেছেন। কলামের মত লেখকের নিজের।
লেখক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১ নভেম্বরের তথ্য তুলে ধরেছেন: চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪২৭, হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জন; আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১ হাজার ৯২৯ জন, মৃত্যু আটজন, চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ১১৪ জন। শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন। রোগটি এখন আর রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই, জেলা-উপজেলাতেও রোগী বাড়ছে, কোথাও শয্যাসংকট।
সংকটের কারণ হিসেবে তিনি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করেছেন: উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তরল স্যালাইনের উৎপাদন কমিয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে নরমাল স্যালাইনের খুচরা দাম অপরিবর্তিত; উৎপাদকদের দাবি, এক ব্যাগে খরচ প্রায় ১২০ টাকা, অথচ নির্ধারিত দাম ৮৭ টাকা, আর দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। যে দেশের ওষুধ প্রায় ১৪০টি দেশে রপ্তানি হয়, সেখানে এমন সংকটকে তিনি বিস্ময়কর বলেছেন।
লেখকের প্রস্তাব, সরকার দ্রুত উৎপাদকদের সঙ্গে বসে এমন দাম ও সরবরাহনীতি ঠিক করুক, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে আগ্রহ না হারায় এবং সাধারণ মানুষও অযৌক্তিক দামের শিকার না হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও উৎপাদকদের কাছে তাঁর প্রশ্ন: দেশে প্রকৃত চাহিদা কত, দিনে কত ব্যাগ তৈরি হচ্ছে, হাসপাতালে মজুত কত, কারা উৎপাদন কমিয়েছে, আর জরুরি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না।
একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডেঙ্গুর প্রত্যেক রোগীর শিরায় স্যালাইন লাগে না; রোগীর পানিশূন্যতা, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ ও পরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন, আর অতিরিক্ত স্যালাইনও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আতঙ্কে নিজেরা স্যালাইন না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মানার কথা বলেছেন।
প্রতিরোধেও ধারাবাহিকতার অভাব দেখছেন লেখক: বর্ষা এলে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়, বছরের বাকি সময় থেমে যায়। তাঁর মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; স্থানীয় সরকারকে নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ প্রশাসনকে বাজার তদারকি আর হাসপাতালে শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, স্যালাইন বিলাসী পণ্য নয়, জীবন রক্ষার উপকরণ।
ছবি: James Gathany, CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)