বাঘ, মেরু ভালুক থেকে বিরল ফুল, পাখি ও পোকামাকড় পর্যন্ত হাজারো প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে; ধ্বংস না থামলে এ শতকের শেষে উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের অর্ধেক হারিয়ে যেতে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করছেন। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মৃত্যুঞ্জয় রায় লিখেছেন, এ সংকটের অন্তত একটি সহজ জবাব রিওয়াইল্ডিং। কলামের মত লেখকের নিজের।
লেখক ক্যারোলিন ফ্রেজারের বই রিওয়াইল্ডিং দ্য ওয়ার্ল্ড-এর সূত্র ধরে ধারণাটি ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলায় একে পুনর্বন্যকরণ বলা যেতে পারে, তবে এটি শুধু বনের বিষয় নয়: বাস্তুতন্ত্রের সব প্রজাতিকে আবার বন্যরূপে ফিরিয়ে আনা, প্রকৃতিতে হস্তক্ষেপ না করে তাকে তার মতো চলতে দেওয়া। গাছ না কেটে বনকে নিজে থেকে ফিরতে দেওয়া, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের বাধা সরানো, বাস্তুতন্ত্র বুঝে প্রাণী ছাড়া বা সংখ্যা কমানো, পাহাড় ন্যাড়া না করে আচ্ছাদন বাড়তে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কের ১৯৯৫ সালের প্রকল্পের কথা লিখেছেন। প্রায় ৭০ বছর নেকড়ে না থাকায় হরিণ বেড়ে গিয়ে গাছের চারা খেয়ে ফেলছিল, নদীর পাড় ভাঙছিল, পাখি, ভালুক ও মাছ কমছিল। নেকড়ে ছাড়ার পর ভয়ে হরিণ নদীর পাড় এড়াতে শুরু করে, পাড় ভাঙা থামে, সংখ্যাও কমে; কিছু গাছ ছয় বছরে প্রায় পাঁচ গুণ লম্বা হয়, ফিরে আসে পাখি ও ভালুক। লেখকের সতর্কতা, সুন্দরবন বাঘশূন্য হলে হরিণের দখলে গিয়ে বনে হয়তো গাছই থাকবে না।
মানুষের জন্য এর মানে, তাঁর ভাষায়, বিশুদ্ধ পানি, উর্বর মাটি আর স্থিতিশীল আবহাওয়া, যা কার্যকর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। বন ফিরলে বাতাস শীতল হয় ও মাটি পানি ধরে রাখে, নদী অবাধে বইলে বন্যার ঝুঁকি কমে ও মাছের উপকার হয়, জীববৈচিত্র্য বাড়লে বাস্তুতন্ত্র চাপ সামলাতে বেশি সক্ষম হয়। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানসিক চাপ কমানোর সঙ্গেও যুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইউরোপ ও আমেরিকায় জলাভূমি পুনরুদ্ধার, তৃণভূমি পুনরুজ্জীবন আর হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ফিরিয়ে আনার নানা প্রকল্পে কৃষক, বিজ্ঞানী, স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যুক্ত হচ্ছেন। লেখকের প্রশ্ন, বাংলাদেশেও কি এমন ধারণায় কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে?
পরিবেশের খারাপ খবরের ভিড়ে লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটি পুরো চিত্র নয়; অনেক দেশে প্রকৃতিকে সুযোগ দেওয়ায় বন্যপ্রাণী ফিরছে, গাছ জন্মাচ্ছে, নদী প্রবাহ ফিরে পাচ্ছে। তিনি উদ্ধৃত করেছেন ওয়াইল্ডার নেচারের প্রধান ক্যারোলিনা সোতো-নাভারোকে: বন্যকরণ মানে বন্য প্রকৃতির মূল্য নিয়ে আমাদের ভাবনার বদল, শুধু আজকের জন্য নয়, সুদূর ভবিষ্যতের জন্যও।
ছবি: National Park Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)