দেশের প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বেচতে বাধ্য হচ্ছেন এবং অনেকে খামার গুটিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন, এমন চিত্র তুলে ধরেছেন ড. মো. ফোরকান আলী। জাগো নিউজের কৃষি ও প্রকৃতি পাতায় প্রকাশিত তাঁর কলামের মূল কথাগুলো এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখকের হিসাবে, মাঠপর্যায়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় সাড়ে ৯ টাকা, অথচ খামারিকে বেচতে হচ্ছে সাড়ে ছয় টাকার মতো দামে; প্রতি ডিমে লোকসান প্রায় তিন টাকা। সেই ডিম আড়ত ঘুরে ভোক্তা কেনেন ১১ টাকায়। টিসিবির তালিকায় রাজধানীতে ফার্মের ডিমের হালি ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, আর ব্রয়লারের কেজি ২৩০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) দাবি উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, পাঁচ বছর আগে দেশে প্রায় দুই লাখ পোল্ট্রি খামার ছিল, এখন আছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার; অর্থাৎ প্রায় ৬৪ হাজার খামার বন্ধ হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকায় নিবন্ধিত খামার প্রায় ৮৬ হাজার, এর বাইরে প্রায় ৫০ হাজার অনিবন্ধিত। এফএওর তথ্যে মুরগির মাংস উৎপাদনে ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৩তম।
লেখকের মতে, খামারির খরচের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই যায় খাদ্যে, আর খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোতে নেই। ডিম পচনশীল বলে খামারি মজুত রাখতে পারেন না, আর এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীরা ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বড় খামার সহজে ঋণ ও সরকারি সুবিধা পেলেও প্রান্তিক খামারিরা তা পান না।
সমাধান হিসেবে তিনি উৎপাদন খরচের সঙ্গে মিলিয়ে ডিমের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ, খাদ্য উপকরণে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, খামারিদের জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, স্বল্প সুদে ঋণ, পোল্ট্রি খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড ও ভর্তুকি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তাঁর সতর্কবার্তা, ছোট খামারগুলো টিকিয়ে রাখা না গেলে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে বাজার চলে যেতে পারে, আর তাতে ডিম ও মুরগির দাম নিয়ে অস্থিরতার ভার পড়বে সরাসরি ভোক্তার ওপর।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)