জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার ঢাকা পোস্টে লেখা কলামে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রায় ২৭ বছর পরও দেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা কেন গড়ে ওঠেনি। তাঁর মতে, ডেঙ্গু এখন মৌসুমি সমস্যা নয়, দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সংকট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, মারা গেছেন ৪১৮ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত ছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি, মৃত্যু ১ হাজার ৭০৫। ২০২৪ সালে মৃত্যু ৫৭৫, ২০২৫ সালে ৪১৩। তাঁর পর্যবেক্ষণ, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে, তবে কতটা কমবে তা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ নেই।
লেখকের মতে, ডেঙ্গু এখন জেলা-উপজেলা ও গ্রামেও ছড়িয়েছে, তাই পরিকল্পনা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। কতবার ওষুধ ছিটানো হলো তা দিয়ে নয়, মশার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং রোগ ও মৃত্যু কতটা কমল, তা দিয়েই কর্মসূচির সাফল্য মাপতে হবে।
তিনি বলেন, এডিস মশা জন্মায় বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, পানির ট্যাংক ও নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানিতে। তাই শুধু ড্রেন বা রাস্তায় কীটনাশক ছিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, মশার ঘনত্ব পরিমাপ ও কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই একসঙ্গে করতে হবে।
তাঁর প্রস্তাব, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়া হোক, যার নেতৃত্বে থাকবেন মশার জীববিজ্ঞান ও বাহক নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞ একজন কীটতত্ত্ববিদ। প্রতিটি পরিবারকে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার কথাও বলেছেন তিনি। এই মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: Econt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ঢাকা পোস্ট





মন্তব্য
(০)