বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে গবাদিপশুর গোবর, ফসলের অবশেষ বা খাদ্যবর্জ্য পচানোর পর যে পুষ্টিসমৃদ্ধ অবশেষ (ডাইজেস্টেট) থাকে, তা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে খনিজ সারের একাংশের বিকল্প সম্ভব, বিশেষ করে যেসব এলাকায় গবাদিপশু বেশি। ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের (জেআরসি) এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সারের বাজার বিঘ্নিত হওয়ার মধ্যে এই গবেষণা এল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ইইউতে নাইট্রোজেন সারের দাম আরও ৪০ শতাংশ বেড়েছে, অথচ খরচ আগে থেকেই ২০২০ সালের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি ছিল। বিশ্বের ইউরিয়া রপ্তানির ৪৩ শতাংশ এবং অ্যামোনিয়া রপ্তানির ২৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তৈরি গবেষণায় দেখা গেছে, ডাইজেস্টেট, বিশেষ করে সেন্ট্রিফিউজে আলাদা করা কিছু তরল অংশ, ফলন বা পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতি না করেই খনিজ সারের একাংশের জায়গা নিতে পারে। যেসব ডাইজেস্টেটে কার্বন-নাইট্রোজেন অনুপাত কম এবং খনিজ নাইট্রোজেন বেশি, সেগুলো মাঠে প্রায় রাসায়নিক সারের মতোই কাজ করে। জেআরসি বলেছে, কাঁচামাল বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও নির্ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে অ্যামোনিয়া নিঃসরণ ও নাইট্রেট চুইয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এই ফল কাজে লাগবে কমিশনের ২০২৬ সালের মে মাসের সার কর্মপরিকল্পনায়। সেখানে দেখা হবে, আরও ডাইজেস্টেট, বিশেষ করে তরল অংশ, রিনিউর (গোবর থেকে পুনরুদ্ধার করা নাইট্রোজেন) মানদণ্ডে আনা যায় কি না। তাহলে নাইট্রেট-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ গোবরের জন্য নির্ধারিত হেক্টরপ্রতি বছরে ১৭০ কেজি নাইট্রোজেনের সীমার ওপর আরও ৮০ কেজি পর্যন্ত প্রয়োগ করা যাবে।
জেআরসির মতে, দূষক, অ্যামোনিয়া ক্ষতি ও ফসফরাস নিয়ন্ত্রণে রেখে এর ব্যবহার বাড়ালে তা ইইউর পরিবেশ ও স্বাস্থ্য আইনের মধ্যেই থাকবে। এতে আমদানি করা পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমবে, গবাদিপশুপ্রধান অঞ্চলে কৃষির খরচ কমবে এবং বাজারের ওঠানামায় ইউরোপের কৃষি আরও সহনশীল হবে।
ছবি: Alex Marshall / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: The Cattle Site





মন্তব্য
(০)