আগাছা দমনের রোবট প্রযুক্তিতে নতুন প্রজন্মের যন্ত্র আনছে রোবট নির্মাতা আন্দেলা (Andela)। ফিউচার ফার্মিং জানিয়েছে, নতুন রোবটটি পুরো খেত ঢাকতে পারে এবং আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি গতিতে কাজ করে: প্রতিটি ইউনিটে সেকেন্ডে ৩টির বদলে ৮টি আগাছা। বিদ্যুতের শক দেওয়া বাহুর পেছনে এখন একটি লেজার ইউনিটও বসানো যায়। এক বড় জৈব খামার একসঙ্গে বিদ্যুৎ ও লেজার দিয়ে আগাছা দমন করে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেখান থেকেই এই ধারণা।
গতি বেড়েছে নতুন বাহুর কারণে, আন্দেলা যার নাম দিয়েছে এম-পিড। কাঠামোর ভেতরে দুই সারিতে ঝোলানো এই বাহু আগের ডেল্টা বাহুর মতোই তিন দিকে নড়ে, কিন্তু কাঠামোর সঙ্গে প্রতিটির সংযোগ একটি। তাই বাহুগুলো ৪৫ সেন্টিমিটারের বদলে ২৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে বসানো যায়, আর এতেই পুরো খেত ঢাকা সম্ভব হয়েছে।
রোবটটি ৪, ৬ অথবা ৮-৯টি ইউনিট নিয়ে আসে, সারির মধ্যে কাজের প্রস্থ ৩ থেকে ৬ মিটার; পুরো খেতে কাজ করলে প্রস্থ কিছুটা কম। বাড়তি ক্ষমতার কারণে নতুন সাড়ে ৪ মিটারের রোবট পুরোনো ৯ মিটারের রোবটের সমান কাজ করে। খেলার মাঠ ও গলফ কোর্সের জন্য আড়াই মিটারের কাঠামোয় ১০টি ইউনিটের একটি সংস্করণও তৈরি হচ্ছে।
লেজার ইউনিটের যন্ত্রাংশ ও অ্যালগরিদম আন্দেলা নিজেই তৈরি করেছে। এতে নীল ডায়োড আলো ব্যবহার হয়, যা তুলনামূলক সস্তা ও কম বিদ্যুৎ খরচের; ব্যাটারি আর সৌর প্যানেলে চলা রোবটের জন্য যা জরুরি। লেজার ছোট আগাছা মারে, আর বিদ্যুতের বাহু মারে বড় আগাছা বা ফসল থেকে যথেষ্ট দূরের আগাছা, যাতে ফসলে বিদ্যুৎ না লাগে। জৈব খামারটিতে ৫ মিলিমিটার পর্যন্ত সব আগাছা লেজার মেরেছে, বাকিটা রোবট। আন্দেলার মতে, আগাছা বাড়ার অনুকূল সময়ে শুধু লেজারে কুলায় না; দুটি মিলিয়ে সেকেন্ডে ১৫টি আগাছা দমনের আশা করছে তারা, যদিও চূড়ান্ত ক্ষমতা এখনো জানা যায়নি।
আগামী মৌসুম থেকে রোবটগুলো খেতের কিনারায় নিজেই ঘুরবে এবং নতুন সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা সেন্সরের সাহায্যে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে। পুরোনো রোবটে নতুন বাহু লাগানোর পরিকল্পনাও আছে, তবে তা ২০২৮ সালের আগে বাজারে আসবে না। নতুন রোবটের দাম ঠিক হয়নি, তবে আগের প্রজন্মের কাছাকাছি থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লুকাস ফান দে ভেইয়ার।
ছবি: PaulineCant (লেটুসখেতে একটি স্বয়ংক্রিয় আগাছা দমন রোবট, ফার্মওয়াইজ টাইটান এফটি-৩৫) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Future Farming





মন্তব্য
(০)