কোনো উদ্ভাবন দশ লাখ কৃষকের কাছে পৌঁছেও প্রায় কিছুই না বদলাতে পারে। ২০ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবসে নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ ও সিজিআইএআরের তিনটি আলোচনায় এই কথাই ঘুরেফিরে এসেছে। ডাচ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা আলোচনা করেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কীভাবে কৃষি উদ্ভাবন টিকে থাকে, কৃষি গবেষণা কী ফিরিয়ে দেয় আর লাভ কার ঘরে যায়।
অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিআইএটির ইভান গারভেটজ (Evan Girvetz) বলেন, উদ্ভাবন ছড়ানো মানে যাচাই করা প্রযুক্তি নিয়মিত ব্যবহারে আসা, আর তা চালু রাখার মতো সরবরাহকারী, সেবাদাতা ও সরকারি সংস্থা থাকা। সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচি ১৯টি সলিউশন ট্র্যাকে উদ্ভাবনকে নির্দিষ্ট চাহিদা, এলাকা ও অংশীদারের সঙ্গে জোড়ে, সম্ভাবনা দুর্বল হলে অর্থ সরিয়ে নেয়। নেপালের পশ্চিম তরাইয়ে ব্যাংক ঋণের সহায়তায় ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ভুট্টা কেনার চুক্তি কৃষক সমবায়গুলোকে একটি বেসরকারি ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করেছে, সঙ্গে আছে শুকানো ও গ্রেডিংয়ের সুবিধা; তবে যন্ত্র ও সেচের সমস্যা রয়ে গেছে। কেনিয়ায় ডিজিটাল জলবায়ু পরামর্শ সেবার পূর্বাভাসের মালিক দেশটির আবহাওয়া বিভাগ, কাউন্টিগুলো সম্প্রসারণে সাহায্য করে, বেসরকারি অংশীদারেরা তা কৃষকের কাছে পৌঁছায়।
দ্বিতীয় আলোচনায় আইএফপিআরআইয়ের রুই বেনফিকা ও ভাখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিনা মেনিস একটি মূল্যায়নের প্রাথমিক ফল তুলে ধরেন। এখনো যাচাইয়ের মধ্যে থাকা খসড়াটির হিসাবে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে সিজিআইএআরের কাজে আয় বাড়ায় নেদারল্যান্ডসের রপ্তানি বছরে ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ইউরো বাড়ে, সিজিআইএআর থেকে আসা গমের জাত ডাচ গম উৎপাদনে বছরে ১ কোটি ২২ লাখ ইউরো যোগ করে, আর বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বাড়ায় নেদারল্যান্ডসে স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচ ১.২ শতাংশ কমে।
তৃতীয় আলোচনা ছিল নকশা নিয়ে। ওয়ানে ভিসার বলেন, ঘানা ও কেনিয়ায় ক্ষুদ্র কৃষকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকসংখ্যা বেশি দেখালেও আসল ব্যবহার কম হতে পারে; কৃষকেরা চান কাজের তথ্য আর প্রশ্ন করার সুযোগ। সিজিআইএআরের মার্ক শুট বলেন, উপযুক্ত অর্থায়ন না থাকলে সৌরসেচ গরিব কৃষকের নাগালের বাইরে থাকে, আর সারাক্ষণ ইন্টারনেট লাগে এমন পানি ব্যবস্থাপনার অ্যাপ অচল হয়ে পড়ে যেখানে সংযোগ অনিয়মিত।
সমাপনী বক্তব্যে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিমো গাসবিক বলেন, বাড়তি খরচে পরিবারের অবস্থা খারাপ হলে বেশি ফলন দিয়ে উদ্ভাবনের মূল্য প্রমাণ হয় না; উদ্ভাবনকে কৃষকের জমি, শ্রম ও টাকার সীমার সঙ্গে মিলতে হবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রিস বাকনাল-উইলিয়ামস।
ছবি: Krish Dulal (ফসল তোলার পর নেপালের ভুট্টাখেত) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)