প্রচলিত অর্থনীতিতে ব্যবসার মূল লক্ষ্য ধরা হয় মুনাফা বা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বাড়ানো। ইসলামি জীবনদর্শনে ব্যবসা এর চেয়ে বড় কিছু: সমাজকে সেবা দেওয়া আর কল্যাণ যোগ করার একটি মাধ্যম। যে ব্যবসা অঢেল আয় করে কিন্তু পরিবেশ নষ্ট করে, ভেজাল পণ্য দেয় বা মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে, ইসলামি দৃষ্টিতে তা নিজের উদ্দেশ্যেই ব্যর্থ, প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের এক লেখায় এ কথা বলা হয়েছে।
লেখায় বলা হয়, একজন মুসলিম উদ্যোক্তা যখন মানুষের উপকার আর সৎ উপায়ে হালাল রিজিকের নিয়তে ব্যবসা শুরু করেন, তখন সেই ব্যবসাই ইবাদত হয়ে ওঠে। মহানবী (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী পরকালে নবী, সত্যনিষ্ঠ ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯)।
বরকতের প্রথম পথ হিসেবে লেখায় এসেছে ক্ষতি মেনেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দৈনন্দিন কাজে ‘ইহসান’ (উত্তম আচরণ) ও ‘আদল’ (ইনসাফ) ধরে রাখাই ব্যবসার সবচেয়ে কঠিন দিক। কোনো চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হলে আইন হয়তো বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য করে না, কিন্তু মুমিন উদ্যোক্তা দায়বোধ থেকে তাঁর সহায়তা চালিয়ে যান। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, ইহসান এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯০)।
দ্বিতীয় পথ নিয়োগে সততা। কর্মী বাছাইয়ে ইসলাম দক্ষতা ও সততাকে গুরুত্ব দেয়। সুরা কাসাসের ২৬ নম্বর আয়াতে নবী শোআইবের কন্যার কথায় সেই মূলনীতি এসেছে: যাঁকে মজুরি দিয়ে নিযুক্ত করা হবে, তাঁদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যিনি শক্তিশালী (দক্ষ) ও বিশ্বস্ত।
তৃতীয় পথ সম্মানের বিদায়। কোনো কর্মীকে বাদ দিতে হলে হঠাৎ চাকরিচ্যুত না করে মর্যাদার সঙ্গে বিদায় দেওয়া এবং নতুন কাজ খোঁজার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়াকে লেখায় মহৎ মানবিকতা বলা হয়েছে।
উপার্জনে বরকতের জন্য মহানবী (সা.) প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন, লেখায় তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান তাইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’ অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র ও হালাল রিজিক এবং গ্রহণযোগ্য আমল চাই (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯২৫)।
লেখার আহ্বান, কর্মক্ষেত্রে শুধু বস্তুগত লাভের পেছনে না ছুটে নীতি, আমানতদারি, কর্মীদের প্রতি দয়া আর সামাজিক কল্যাণের একটি ‘বরকত কালচার’ গড়ে তোলা।
ছবি: ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ, Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)