ইতালীয় ক্যালিগ্রাফি শিল্পী আন্তোনেলা লেওনি থাকেন মিসরের রাজধানী কায়রোতে। আরবি ক্যালিগ্রাফি আর মার্বেলিং শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, তিনি ইসলামি শিল্পকলার একজন বিশেষজ্ঞও। দেশ রূপান্তরের এক লেখায় তাঁর শিল্পচর্চার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
২০০৩ সালে লন্ডনের হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে তিনি এশীয় শিল্পকলা ও ইসলামি বিশ্বের শিল্পকলায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন। ২০১০ সালে মিলান থেকে চীনা চিত্রকলায় চারুকলার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, আর ২০১৯ সালে কায়রোর একাডেমিয়া খলিল আগা থেকে আরবি ক্যালিগ্রাফি ও অলংকরণশিল্পে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
পবিত্র কোরআনের আয়াত, হাদিস আর প্রাচীন কবিতা তাঁর কাজের প্রেরণা। সঙ্গে আছে প্রাচীন মার্বেলিং শিল্প, যেখানে পানির ওপর রঙের যে বিন্যাস তৈরি হয় তা ডিএনএর মতোই অনন্য, হুবহু আর কখনো তৈরি করা যায় না।
আন্তোনেলার সৃজনপ্রক্রিয়ায় মার্বেলিংকে সবচেয়ে সহজ ধাপ মনে হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত কাজের চরিত্র ঠিক হয় এখানেই: পানির ওপর ফুটে ওঠা নকশা কাগজে তোলার পর আর সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাঁর কাছে এই প্রক্রিয়া ইসলামি শিল্পকলার বিমূর্ত অভিব্যক্তির দর্শন আর ইসলামের মৌলিক চেতনা, স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক।
লেখায় বলা হয়েছে, প্রাচীন কৌশলের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এই মিলনই তাঁর কাজকে আলাদা করেছে। নানা শিল্পধারা ও সংস্কৃতির মিশেলে তাঁর শিল্পকর্ম যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি গভীর চিন্তা আর আত্মোপলব্ধির উপলক্ষ। সবচেয়ে সুন্দর শব্দগুলো লিখে তিনি যেন সৌন্দর্য ও তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে স্থায়ী করে রাখতে চান, যাতে শিল্পী ও দর্শক দুজনেই আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হন।
লেখাটি লিখেছেন দেশ রূপান্তরের মাইসারা জান্নাত।
ছবি: কায়রোর সুলতান হাসান মসজিদের দেয়ালে কুফি লিপিতে বিসমিল্লাহ, Mbenoist / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)