জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব উৎপাদকের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে; আর এ ঝুঁকি সামলানোর মূল ভরসা ইইউর একক বাজার ও অভিন্ন কৃষিনীতি (সিএপি)। দেশটির কৃষি, খাদ্য ও সমুদ্রবিষয়ক মন্ত্রী মার্টিন হেইডন সংসদ ডেইলে এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে অ্যাগ্রিল্যান্ড।
খরা, বন্যা, তীব্র গরম, পানির অভাব ও বদলে যাওয়া চাষের পরিবেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে সরবরাহ শৃঙ্খল কতটা নাজুক, মন্ত্রণালয় তা মূল্যায়ন করেছে কি না জানতে চেয়েছিলেন সংসদ সদস্য রবার্ট ও’ডনোহিউ। জবাবে হেইডন বলেন, একক বাজারকে হিসাবে ধরলে আয়ারল্যান্ডের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রাক্কলন কেবল দেশীয় উৎপাদনের অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি, বিশেষ করে সবজি ও দানাশস্যে; যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৃষি-খাদ্য বাণিজ্যও অবস্থান শক্ত করে।
মন্ত্রী জানান, দেশের কৃষি-খাদ্য কৌশল ফুড ভিশন ২০৩০-এর মধ্যবর্তী পর্যালোচনা চলছে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তাও বিবেচনায় থাকবে। ঘাসনির্ভর পশুপালনে আয়ারল্যান্ডের তুলনামূলক সুবিধা কৃষি-খাদ্য উৎপাদনের কেন্দ্রেই থাকবে, তবে খাতকে বৈচিত্র্যময় করার সুফলও আছে; উদ্যানফসলের জন্য ২০২৩-২০২৭ মেয়াদি জাতীয় কৌশলে একটি পথনকশা ঠিক করা হয়েছে।
তাঁর মন্ত্রণালয় উৎপাদক সংগঠনগুলোর জন্য ইইউর সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে, যা গত বছর পাঁচটি সংগঠনকে ৮৭ লাখ ইউরো দিয়েছে। বাণিজ্যিক উদ্যানফসল চাষিদের খামারে মূলধনী বিনিয়োগে সহায়তার জাতীয় কর্মসূচিও রয়েছে।
হেইডন বলেন, উৎপাদন ও বাণিজ্যে বিশেষায়নে আয়ারল্যান্ড ব্যতিক্রম নয়; বিদেশি ফলের মতো পণ্য বা সারা বছরের চাহিদা মেটাতে কিছু পণ্যের আমদানি দেশীয় উৎপাদনে পূরণের সুযোগ সীমিত। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ড ৪৯ কোটি ২৫ লাখ ইউরোর (২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯২ টন) উদ্যানপণ্য রপ্তানি করেছে, আমদানি করেছে ১৯৭ কোটি ইউরোর (প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার টন); ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৭ কোটি ইউরো ও ৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১১ টন।
ছবি: Sean Kelly MEP / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)