দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা আগামী বছরের ফসলের খরচ এখনই মেটাচ্ছেন, যখন ডিজেল ও সারের দাম দ্রুত বাড়ছে; সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো এলে সেই ফসল একদিকে দামি, অন্যদিকে কম ফলনের হতে পারে। দেশটির কৃষি সংবাদমাধ্যম ফার্মিংপোর্টালে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ওপর থেকে পরিস্থিতি স্বস্তির: আগস্টে খাদ্য ও অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ের মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.১ শতাংশ, পরপর দুটি ভালো গ্রীষ্মকালীন শস্য মৌসুমে ভুট্টার মজুত পর্যাপ্ত, আর গত মৌসুমের ভালো বৃষ্টিতে বাঁধ ও মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে। কিন্তু খামার পর্যায়ে সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম লিটারে প্রায় ২.৯৪ র্যান্ড (০.০৫% সালফার) ও ৩.১৫ র্যান্ড (০.০০৫% সালফার) বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষের তথ্যে অক্টোবরে আরও প্রায় ২.৬০ ও ৩.০০ র্যান্ড বাড়ার ইঙ্গিত আছে; তা হলে ০.০০৫% সালফার ডিজেলের পাইকারি দাম লিটারে প্রায় ৩৩.০৫ র্যান্ডে পৌঁছাবে, যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
আরেক বড় ঝুঁকি সার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালে তাদের সারমূল্য সূচক ৩০ শতাংশের বেশি এবং ইউরিয়ার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়বে; দক্ষিণ আফ্রিকা তার প্রয়োজনের ৮০ শতাংশের বেশি সার আমদানি করে। গ্রেইন এসএর হিসাবে শস্য ও তেলবীজ চাষে পরিবর্তনশীল খরচের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ সার আর ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ ডিজেল। ২০২৭ সালের শুরুতে যে ফসল উঠবে, তার অর্থায়ন, সার দেওয়া ও বপন হচ্ছে ২০২৬ সালেই, তাই সংঘাত থামলেও এই খরচ ফসলে থেকে যাবে। র্যান্ড দুর্বল হলে চাপ আরও বাড়ে: ডলারে দাম ২০ শতাংশ বাড়ার সঙ্গে র্যান্ড ১০ শতাংশ দুর্বল হলে স্থানীয় দাম বাড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ।
মার্কিন সংস্থা নোয়ার জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত খুব শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি; দেশটির কৃষি বিভাগও এবারের গ্রীষ্মে অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি ও বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এল নিনো মানেই সব জায়গায় খরা নয়, তবে খরচ বেশি অথচ ফলন কম হলে টনপ্রতি খরচ অনেক বেড়ে যায়; ফলে খরায় শস্যের দাম বাড়লেও কৃষকের লাভ বাড়ে না।
গম দুর্বল জায়গা: দেশটি বছরে ৩৫ লাখ টনের বেশি গম খায় এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আমদানি করে। গ্রেইন এসএ বলছে গম চাষের জমি ৯৭ বছরে সবচেয়ে কম; ২০২৬ সালের ফসল প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার টন, আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৭.৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে ক্যানোলার জমি ২০১০ সালের প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে এখন প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ হেক্টর। দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলোতে বৃষ্টিনির্ভর ক্ষুদ্র চাষিদের ফসল নষ্ট হলে দেশটির শস্যে চাপ বাড়তে পারে; আর বাড়তি খরচ অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গরিব পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, যাঁরা দেশের খাদ্য বাণিজ্যের আনুমানিক ৪০ শতাংশ সামলান। ২০২৫ সালে দেশটির ২২ শতাংশ পরিবার খাদ্যপ্রাপ্তি অপর্যাপ্ত বা খুবই অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছিল।
ছবি: LBM1948 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FarmingPortal





মন্তব্য
(০)