কম ও অসম মৌসুমি বৃষ্টির পর চালের দাম বাড়তে থাকায় ভারত সরকার দেশের সব ব্যবসায়ী, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, বড় খুচরা চেইন ও চালকলকে প্রতি সপ্তাহে চাল ও ধানের মজুতের হিসাব দিতে বলেছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চাল ও ধানে মজুত সীমা আরোপের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র।
৬ নভেম্বর জারি করা আদেশে ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় চাল বা ধান মজুত রাখা সবাইকে সরকারের ফুড স্টক পোর্টালে নিবন্ধন করে প্রতি শুক্রবার মজুতের তথ্য হালনাগাদ করতে বলেছে। হিসাব দিতে হবে ছয় ধরনে: বাসমতি, প্রিমিয়াম অ-বাসমতি, অ-বাসমতি, সেদ্ধ চাল, ভাঙা চাল ও ধান। নিবন্ধন না করলে বা মজুত সীমা ভাঙলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫-এর ৬ ও ৭ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ আদেশ দিয়ে মজুত সীমা বসাতে পারবে।
চাপ সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ভারতে এবং প্রিমিয়াম অ-বাসমতি চালে। খবর অনুযায়ী দক্ষিণের বাজারে সোনা মাসুরি (Sona Masoori) চালের পাইকারি দাম এক মাস আগের কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৬৫-৭০ রুপি হয়েছে; সাম্বা মাসুরি ও পোন্নি চালের দামও বেড়েছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে খরিফ ধানের আবাদ প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৪২.৬৮ মিলিয়ন হেক্টরে নেমেছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে ২০২৬-২৭ শস্যবছরে (জুলাই-জুন) চাল উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন টন, যেখানে ২০২৫-২৬ সালে রেকর্ড ১৫৪ মিলিয়ন টন হয়েছিল। এল নিনো এশিয়ার অন্য ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলেও ফলনের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে, আর মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার এ মৌসুমে বিশ্বে চাল উৎপাদন কমতে পারে।
রুরাল ভয়েস জানিয়েছে, দাম বাড়া মানেই সারা দেশে ঘাটতি নয়: সরকারি চালের মজুত স্বস্তিদায়ক। সরকার ন্যাফেড (NAFED), এনসিসিএফ (NCCF) ও কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারকে বাড়তি ভারত রাইস বরাদ্দ দিয়ে বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বিতরণ বাড়াতে বলেছে। খোলাবাজার বিক্রয় প্রকল্পে (দেশীয়) ২০২৬-২৭ সালের চাল বিক্রির লক্ষ্য ২৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে দ্বিগুণ করে ৫০ লাখ টন করা হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-নিলামে বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ২৫ লাখ টন বিক্রি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১ লাখ টন।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাঙা চালও। এ চালের জন্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দেশের ইথানল উৎপাদক ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারকদের প্রতিযোগিতা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের শতভাগ ভাঙা চালের দাম টনপ্রতি ৩৬০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, এশিয়ার মানদণ্ড চালের দাম প্রায় দুই বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে। দেশের পাইকারি বাজারে ভাঙা চাল তিন সপ্তাহে কুইন্টালপ্রতি ২,৮৮৩ রুপি থেকে বেড়ে ৩,০৩৬ রুপি হয়েছে।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (IREF) বলেছে, দেশে দাম বাড়তে থাকলে শতভাগ ভাঙা চাল রপ্তানিতে আবার বিধিনিষেধ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। খবর অনুযায়ী ভাঙা চাল রপ্তানিকারকদের নতুন আগাম চুক্তি না করতে বলা হয়েছে। ভারত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভাঙা চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল এবং ২০২৫ সালের ৭ মার্চ তা আবার মুক্ত রপ্তানির তালিকায় ফেরায়। নতুন কোনো রপ্তানি বিধিনিষেধ এখনো ঘোষণা হয়নি।
প্রতিবেদনটি রুরাল ভয়েসের জন্য করেছেন অজিত সিং (Ajeet Singh)।
ছবি: Leslie Seaton / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)। খোলা বিক্রির সোনা মাসুরি চাল, যুক্তরাষ্ট্রে তোলা।
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)