পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে ধানের মান যাচাই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর যন্ত্র। রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ১০০টি এআই নির্ভর অটোমেটিক গ্রেন অ্যানালাইজার বসানো হবে, নদিয়াসহ ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে। পরে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের অন্য ক্রয়কেন্দ্রেও প্রযুক্তিটি ছড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
সমস্যাটা পুরোনো। ক্রয়কেন্দ্রে আর্দ্রতা, ভাঙা বা অপুষ্ট দানার অজুহাতে ভালো মানের ধানও ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, আর তা নিয়ে কৃষক ও চালকল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকে। নতুন ব্যবস্থায় মান বিচারে ব্যক্তির সিদ্ধান্তের বদলে যন্ত্রের রিপোর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
যন্ত্রটির প্রযুক্তিগত নাম অটোমেটিক ফুড গ্রেন অ্যানালাইজার। কৃষকের আনা ধানের নমুনা যন্ত্রে দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান হয়, আর মাত্র তিন মিনিটে মান সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট মেলে। আর্দ্রতার পরিমাণ, অপুষ্ট ও ভাঙা দানার সংখ্যা, পোকায় খাওয়া দানা, অঙ্কুরিত দানা, অন্য ফসলের দানা, পাথর বা ধুলোমাটি, সবই চিহ্নিত করতে পারে এটি। একটি দানা আরেকটির ওপর পড়ে থাকলেও আলাদা করে শনাক্ত করার প্রযুক্তি আছে। কোনো নমুনা মানে না টিকলে কেন বাতিল হলো, তার কারণও লেখা থাকবে ডিজিটাল রিপোর্টে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় নদিয়া, বীরভূম, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে ছয়টি করে, পূর্ব মেদিনীপুরে আটটি এবং মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সাতটি করে যন্ত্র বসানোর কথা জানানো হয়েছে।
রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেছেন, আগের সরকারের আমলে ধানের ওজন ও মান নিয়ে মাণ্ডিতে কৃষকদের হয়রানির শিকার হতে হতো, সেই সমস্যা দূর করতেই মাণ্ডিতে এআই যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত। পশ্চিমবঙ্গ রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মনোজ ফোগলা জানান, মান যাচাইয়ে এমন যন্ত্রের দাবি তাঁদের দীর্ঘদিনের, আর ওড়িশার মতো রাজ্যেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।
প্রশাসনের আশা, যন্ত্রের রিপোর্টে মান নিয়ে কৃষক ও ক্রয়কেন্দ্রের কর্মীদের মধ্যে অযথা মতবিরোধ অনেকটাই কমবে, আর ভালো ধান নিয়ে গিয়ে হয়রানির অভিযোগও কমবে।
প্রতিবেদন: তিয়াশা সরকার, সংবাদ প্রতিদিন।
ছবি: ROCKY / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন




মন্তব্য
(০)