অনুকূল আবহাওয়ায় লালমনিরহাটে আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করেছে, পুরোদমে চলছে কাটা ও মাড়াই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলার পাঁচ উপজেলায় এরই মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। কৃষকেরা এবার আমনের ভালো ফলনের আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
তবে লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা। স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকেও শ্রমিক এসেছেন, তবু সংকট আছে, মজুরিও বেড়েছে। সদরের আমবাড়ী গ্রামের ঈমান মিয়া (৪৪) জানান, বাড়তি মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া কঠিন বলে নিজেই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের আইয়ুব আলী (৪৮) তাঁর ক্ষেতের প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কেটে পাঁচ মণ নতুন ধান মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
একই ইউনিয়নের সুনীল চন্দ্র রায় (৬৬) হিসাব দিয়েছেন: বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ১৪ হাজার টাকা। বিঘায় ১৭ মণ ফলন হলে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হবে ১৮ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে পাঁচ বিঘায় খরচ বাদে তাঁর হাতে থাকবে মাত্র ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। কালীগঞ্জের ভোটমারী ইউনিয়নের ইব্রাহিম ইসলাম (৪২) জানান, শুধু শ্রমিক দিয়ে কাটা, মাড়াই ও বাড়িতে আনতেই তাঁর বিঘায় খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২৯০ টাকা, দুই বিঘায় ৮ হাজার ৫৮০ টাকা।
আদিতমারীর মুসলেম ব্যাপারী (৫০) ও নজির হোসেন (৫৫) বলেন, প্রতিটি ধাপে খরচ বেড়েছে, বিশেষ করে কাটা ও মাড়াইয়ে, তাই ফলন বাড়লেও প্রকৃত লাভ কমছে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করেও তাঁরা বাড়তি আয় করছেন।
সদরের বড়বাড়ী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মানিক মহাজন (৪৭) জানান, এখন প্রতি মণ নতুন ধান ১ হাজার ১০০ টাকা এবং পুরোনো চিকন ধান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মান, আর্দ্রতা ও চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করছে; সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও বাড়তে পারে বলে তাঁর ধারণা।
ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)