মাটির উর্বরতা ধরে রাখা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষায় জৈবসারের ব্যবহার বাড়াতে এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অপরিকল্পিত ব্যবহার বন্ধ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চিৎলা দেশ ইটভাটা চত্বরে বসুন্ধরা শুভসংঘ কৃষকদের নিয়ে এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সহসভাপতি হাজী আব্দুল কাদির। প্রধান অতিথি ও পরামর্শক ছিলেন উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দেন। এতে সাময়িকভাবে ফলন বাড়ার আশা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত সারে মাটির পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়, উপকারী অণুজীবের কাজ ব্যাহত হয়, আর বৃষ্টির পানিতে রাসায়নিক জলাশয়ে গিয়ে পানি দূষিত করে।
কীটনাশক নিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া বা নির্ধারিত মাত্রার বেশি দিলে ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে, যা খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢোকে। মৌমাছি, প্রজাপতির মতো উপকারী পোকাও মারা যায়, ফলে পরাগায়ন কমে যায় এবং প্রকৃতিতে ক্ষতিকর পোকা দমনের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও দুর্বল হয়।
সভায় বক্তারা গোবর, কম্পোস্ট ও কেঁচো সারের ওপর জোর দেন। তাঁদের কথায়, এসব সার মাটিতে জৈব পদার্থ বাড়ায়, মাটির গঠন ভালো করে এবং পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। কৃষকদের নিজেরাই জৈবসার তৈরি করে ব্যবহার করতে এবং মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের চাহিদা বুঝে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার দিতে বলা হয়।
কীটনাশক কমাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়: ফেরোমন ফাঁদ, আলোর ফাঁদ, জৈবিক দমন এবং উপকারী পোকা রক্ষা। একান্ত দরকার হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় দিতে হবে এবং ফসল তোলার আগে নির্ধারিত অপেক্ষার সময় মানতে হবে।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কেবল কৃষকের দায়িত্ব নয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও তা সরাসরি জড়িত। আগামী প্রজন্মের জন্য জমির উর্বরতা টিকিয়ে রাখতে এখন থেকেই রাসায়নিকের অপব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব চাষের দিকে যেতে হবে।
প্রতিবেদন: বাংলানিউজ২৪-এর নিউজ ডেস্ক।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪



মন্তব্য
(০)