নেত্রকোনা সদরের ধীতপুর গ্রামের মো. মহিদুল হাসান মুন্নার সবজির বেডে বিছানো মালচিং পেপার মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে ও আগাছা ঠেকায়। পোকা দমনে ঝুলছে হলুদ আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমন ট্র্যাপ। বিষমুক্ত সবজির এই পদ্ধতি তিনি আশপাশের কৃষকদের হাতে-কলমে দেখাচ্ছেন।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজে ইতিহাসে স্নাতক শেষে স্নাতকোত্তর পড়ছেন মুন্না। পরিবারের প্রায় ২০ একর পৈতৃক জমি। সবজি, ফল, গবাদিপশু ও মাছ নিয়ে পড়াশোনার পর প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি খামার শুরু করেন। এখন প্রায় ৩০০ শতাংশে বাণিজ্যিকভাবে সবজি হচ্ছে।
একই জমিতে পালা করে উচ্চমূল্যের ফসল করেই তাঁর আয় বেড়েছে। ৪০ শতাংশের একটি প্লটে জানুয়ারির দিকে ক্যাপসিকাম ও নাগা মরিচ করেন, অতিবৃষ্টিতে কিছু গাছ নষ্ট হলেও ক্যাপসিকামে নিট লাভ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। মে মাসের শেষে সেখানে দেশি লাউ করেন, খরচ ৪০ হাজার টাকা, নিট লাভ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এখন মাচায় শসা, দুই দিন পরপর তুলে পাইকারি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নতুন করে ৫০ শতাংশে ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ৩০ শতাংশে বল সুন্দরী ও আপেল কুলের বাগান করেছেন। খামারের চারপাশে দুই হাজারের বেশি দেশি কলাগাছ। পরীক্ষামূলকভাবে সাতটি গরু পালছেন, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ লিটার দুধ মিলছে। নিজের খড়, কুঁড়া ও ঘাসে গরুর খাবারের বড় অংশ মেটে। জ্বালানি ও জৈব সারের জন্য আছে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।
কৃষকদের জন্য তিনি গড়েছেন ‘এগ্রোসোমা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। সেখানে সিডলিং ট্রে, কোকোপিট, শেড নেট, স্প্রে মেশিনের পাশাপাশি জৈব বালাইনাশক, নিম তেল, ইয়েলো স্টিকি বোর্ড ও ফেরোমন ট্র্যাপ বিক্রি হয়। শুধু এ প্ল্যাটফর্ম থেকে মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিট আয় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বগুড়ার জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি ‘তরুণ উদ্যোক্তা’ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। মুন্না জানান, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় খামারে লাভ করা কঠিন। প্রতিবেদক: কে এম সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা।
সূত্র: নাগরিক টেলিভিশন




মন্তব্য
(০)