২০২০ সালে ভারতের কানপুরে পারিবারিক জমিতে যখন পা রাখেন বর্ষা আগরওয়াল (Barsha Agarwal), তখন বছরের পর বছর রাসায়নিক চাষে জমিটি ক্ষয়ে গেছে, আর তাঁর নিজের ভাষায় চাষের কিছুই তিনি জানতেন না। আজ সেই জমি থেকে প্রায় ৫০ পরিবার সপ্তাহে দুবার রাসায়নিকমুক্ত খাবার পাচ্ছে, জানিয়েছে কৃষি জাগরণ।
ছেলেরা বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর শ্বশুরের কাছে অব্যবহৃত জমিটি চাষের অনুমতি চান তিনি। শুরুর লক্ষ্য ছিল সাধারণ: পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ খাবার ফলানো।
কোভিডের সময় তিনি একটি বাগান করার কর্মসূচিতে যোগ দেন, পরে আর্ট অব লিভিংয়ের পারমাকালচার কোর্স করেন। অনলাইনে তত্ত্ব শেখার পর বেঙ্গালুরুতে আবাসিক প্রশিক্ষণ নেন। প্রথমে জৈব বালাইনাশক, জীবাণু সার, কেঁচো সার ও গোবর সার কিনতেন। পারমাকালচার তাঁকে শিখিয়েছে হাতের কাছের জিনিস কাজে লাগাতে: গোবর হলো সার, গোমূত্র ও খামারের অন্য উপকরণে তৈরি হলো প্রাকৃতিক বালাই দমনের উপাদান।
মাটি ফেরাতে তিন থেকে চার বছরের শ্রম ও নিয়মিত আগাছা দমন লেগেছে। এরপর রাসায়নিক ছাড়াই জমিতে সবজি হতে থাকে। তিনি কানপুরের চিকিৎসক, বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে গিয়ে নিজে পাঁচ কেজির সবজির ঝুড়ি পৌঁছে দিতেন।
কাঁচা জৈব হলুদ ভালো দামে বিক্রি করা কঠিন হওয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ শেখেন। নিজের ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত হলুদে সংরক্ষণকাল বেড়েছে, অপচয় কমেছে, দামও বেড়েছে। এখন তিনি আদা, ডাল, সরিষা, ছোলা, তিসি, তিল, জোয়ার ও বাজরা চাষ করেন, পাথরের জাঁতায় মিলেটের আটা তৈরি করেন, মৌমাছি পালন করে মধুও পান।
২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পৌঁছানো শুরু করেন, স্বামীর কারখানার বাতিল কাপড়ে তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগে। আশপাশের গ্রামের চারজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন।
ছবি: Kavin1996 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ




মন্তব্য
(০)