ফসল কাটার পর খেতে পড়ে থাকা ভুট্টার গাছ ও পাতায় জমা থাকে সেই সার, যার দাম খামারি আগেই দিয়েছেন। সেটি কীভাবে ফেরত পাওয়া যায়, তা নিয়েই গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। ফলন বাড়ায় সমস্যাটিও বড় হয়েছে, কারণ আধুনিক হাইব্রিড ও ঘন রোপণে প্রতি বছর অবশিষ্টাংশ বেশি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল শারীরতত্ত্ব গবেষণাগারের প্রথম বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী আভা আইজাকস (Ava Isaacs) বলেন, একর প্রতি প্রতি বুশেল ফলনের সঙ্গে কম্বাইনের পেছন দিয়ে বেরোয় ৪৪ পাউন্ড বা তার বেশি শুকনো অবশিষ্টাংশ। তিনি অধ্যাপক ফ্রেড বিলো ও কনর সিবলের সঙ্গে কাজ করেন।
তাঁর হিসাবে, প্রতি টন অবশিষ্টাংশে আটকে থাকে ২০ পাউন্ড নাইট্রোজেন, ৪ পাউন্ড P2O5 ও ২৩ পাউন্ড K2O। একরে ২৩০ বুশেল ফলনের ভুট্টা খেতে রেখে যায় সাড়ে পাঁচ টন অবশিষ্টাংশ, যার পুষ্টি পরের বছরের ফসল ব্যবহার করতে পারে।
সাধারণত চাষ বা রাসায়নিক দিয়ে এই অবশিষ্টাংশ সামলানো হয়। জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় এখন খামারিরা এমন জৈব পণ্যের দিকে তাকাচ্ছেন, যা পচনের গতি বাড়ায়। গবেষকেরা বলছেন, আগাছানাশক দেওয়ার নিয়মিত সময়েই অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ছিটানো যায়, তাই খেতে বাড়তি যাতায়াত লাগে না।
ইলিনয়ের ফ্ল্যানাগানের ইন্টিগ্রেটেড সিড সলিউশনসের মাঠ কৃষিবিদ রবার্ট ফিলিপস (Robert Phillips) মনে করিয়ে দেন, অবশিষ্টাংশ পচাতে তিনি একসময় ৫০ থেকে ৬০ ইউনিট বাড়তি নাইট্রোজেন দিতেন, তখন প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১৭ সেন্ট। এখন তা ১ ডলার ১৭ সেন্ট, যা তাঁর ভাষায় লাভজনকও নয়, টেকসইও নয়। তিনি কার্বন সাইকেল নামের একটি পণ্য ব্যবহার করেন এবং বলেন, এতে হিউমাস বাড়ছে, মাটির স্বাস্থ্যও ভালো হচ্ছে।
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, জৈব উপায়ে অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় মাটির গঠন ও জৈব পদার্থ বাড়তে পারে, কোথাও কোথাও মাটিবাহিত কিছু রোগের চাপও কমেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এসব প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা দরকার, তাই কোনো একটি পণ্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যায় না।
ছবি: USDA NRCS South Dakota / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)