এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্লুবেরির শিকড়ে অজানা ক্ষতির পেছনে কোন পোকা, তা শনাক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। এটি প্রায়োনাস ইমব্রিকর্নিস (Prionus imbricornis) নামের একটি লংহর্ন গুবরে পোকা, যার লার্ভা পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ব্লুবেরি গাছে এই প্রজাতিকে খেতে দেখার নথি প্রথম এই অঙ্গরাজ্যেই মিলল।
ব্লুবেরির শিকড়ে অজ্ঞাত প্রায়োনাস লার্ভার ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছিল ২০১০ সাল থেকে। সমস্যা ছিল এদের খুঁজে পাওয়া ও চেনা। লার্ভা থাকে মাটির নিচে শিকড়ের কাছে, আর নানা লংহর্ন প্রজাতির লার্ভা দেখতে প্রায় একই, তাই চোখে দেখে শনাক্ত করা নির্ভরযোগ্য নয়।
গবেষণার প্রধান লেখক, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কেনেথ গেইজার্ট (Kenneth Geisert) বলেন, আগে গবেষকেরা প্রায়ই পূর্ণবয়স্ক পোকা দেখে প্রজাতি অনুমান করে নিতেন। অনুমান ভুল হলে দমনের পদ্ধতি সমস্যার সঙ্গে মেলে না, আর অন্য উপকারী পোকারও ক্ষতি হতে পারে।
গবেষক দল পেন্ডার, স্যাম্পসন, ব্লাডেন ও নিউ হ্যানোভার কাউন্টির ছয়টি ব্লুবেরি খামারে কাজ করে। যৌন ফেরোমন দেওয়া কালো প্যানেল ফাঁদে পূর্ণবয়স্ক পোকা ধরা হয়। এরপর জেনেটিক বারকোডিং, অর্থাৎ ডিএনএর ছোট নির্দিষ্ট অংশ পরিচিত প্রজাতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পদ্ধতিতে মাঠের লার্ভাকে পূর্ণবয়স্ক পোকার সঙ্গে মেলানো হয়। প্রায়োনাস ইমব্রিকর্নিসের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ।
স্ত্রী পোকা সাধারণত শক্ত কাঠের গাছের শিকড়ের কাছে মাটিতে ডিম পাড়ে। লার্ভা শিকড় খায়, কখনো কখনো গাছই মেরে ফেলে। পূর্ণবয়স্ক পোকা কিছু খায় না।
পোকা চেনা গেলেও চাষিদের সমস্যা কঠিন রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী সম্প্রসারণ অধ্যাপক ও গবেষণার সহলেখক লোরেনা লোপেজ (Lorena Lopez) বলেন, ব্লুবেরিতে এই পোকার বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো কীটনাশক এখন নেই। তিনি কীটনাশক পরীক্ষা শুরু করেছেন। মূল লক্ষ্য পোকার প্রজনন চক্রের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগের সঠিক সময় বের করা, যাতে শিকড়ের বড় ক্ষতির আগেই লার্ভার বৃদ্ধি থামানো যায়।
ছবি: Jlamit / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0), মিশিগানের একটি খামারের ব্লুবেরি
সূত্র: সায়েন্সডেইলি


মন্তব্য
(০)