দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের রায়হান আহমেদ রিপন ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি আনারকলি ফল চাষ করছেন। চার শতাংশ জমিতে মাত্র দুটি লতানো গাছ থেকে প্রথমবারেই প্রায় এক হাজার ফল পেয়েছেন, মাচায় ঝুলছে আরও শত শত।
কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রাস্তার পাশে ৫০ টাকায় একটি ফল খেয়েছিলেন। সেই বীজ বপন করলেও গাছ দুর্বল হয়ে মারা যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারা এনে লাগান, ইউটিউব দেখে পরিচর্যা শিখে সাত মাসেই ফল পান। এলাকায় এটিই প্রথম চাষ বলে জানান প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী।
রিপনের ভাষ্য, গাছ লাগানোর সময় জৈব সার দিতে হয়, পাতার পচন রোধে দু-একবার ওষুধ স্প্রে করতে হয় এবং ফুল এলে মাছি দমনে ফেরোমোন ফাঁদ দিতে হয়। পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে লাগিয়ে দিলে ফলন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়, না হলে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফুল ফলে পরিণত হয়। শীতের তিন মাস ছাড়া সারা বছর ফল হয়, একটি গাছ একটানা ১০ বছর ফল দেয় বলে তাঁর দাবি।
বর্তমানে প্রতিটি ফল ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, পাইকাররা বাড়িতে এসে কিনতে চাইছেন। রিপন ৩০০টির বেশি চারা তৈরি করে প্রতিটি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন এবং নিজের এক বিঘা জমিতেও লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর হিসাবে বিঘায় ১৫ থেকে ২০টি চারাই যথেষ্ট এবং বছরে ১৫ লাখ টাকা আয় সম্ভব। এই হিসাব উদ্যোক্তার নিজের, এখনো মাঠে যাচাই হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আবদুল্লাহ মুস্তাফিন বলেন, ফুলবাড়ীর মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে এর আগে আনারস ও সৌদি আরবের খেজুরও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ


মন্তব্য
(০)