তাপপ্রবাহ ও খরায় ২০২৬ সালে ইউরোপের সয়াবিন উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দোনাউ সোয়া (Donau Soja)। সংস্থাটির বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে মাত্র ২৪ লাখ টনে। এতে আমদানি করা প্রোটিনের ওপর জোটটির নির্ভরতা আরও বাড়বে।
ইইউতে গড় ফলন নেমেছে হেক্টরে ২.২৪ টনে, যা পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম। জোটের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইতালিতে ফসল হতে পারে ৯ লাখ টন। অস্ট্রিয়ায় উৎপাদন ৩৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৮০ হাজার টন হওয়ার পূর্বাভাস।
দুটি দেশে অবশ্য উল্টো চিত্র। পোল্যান্ডে উৎপাদন ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার টন হতে পারে, দেশটি হবে ইইউর তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। জার্মানিতে উৎপাদন ২.৪ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার টন হওয়ার কথা।
ইউরোপে জিএমমুক্ত সয়াবিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ইউক্রেনে উৎপাদন হতে পারে ৪৪ লাখ টন, গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। রপ্তানির হিসাবেই বাজারের টান দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দেশটি পাঠিয়েছে মাত্র ২৭ হাজার টন, এক বছর আগের একই মাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
দোনাউ সোয়ার পূর্বাভাস, ইইউর সয়াবিনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রায় ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রায় ৬ শতাংশে নামবে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সংস্থার মহাব্যবস্থাপক অরেলি তুরনঁ (Aurélie Tournan) বলেন, মাত্র ৮ শতাংশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিয়ে ইউরোপের দুর্বলতা স্পষ্ট, তবে উৎপাদন বাড়ানোর বড় সম্ভাবনাও আছে। তাঁর মতে, ইউরোপে প্রোটিন ফসলের চাষ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা শক্ত করা দরকার।
প্রতিবেদক: অলিভার মরিসন, AgNavigator।
ছবি: United Soybean Board / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator




মন্তব্য
(০)