কৃষি কোম্পানির মাঠকর্মীদের কাজ সমন্বয় করে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এজেন্ট তৈরি করা ভারতের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইকা (Myca) প্রি-সিড পর্যায়ে ১৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। ক্রিসকোর ক্যাপিটালের (Kriscore Capital) নেতৃত্বে এতে অংশ নিয়েছে এক্সিমিয়াস ভেঞ্চার্স (Eximius Ventures), ইন্ডিগ্রাম ল্যাবস ফাউন্ডেশন এবং কৃষি খাতের কয়েকজন অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগকারী।
সমস্যাটা পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বৈশ্বিক দক্ষিণের কৃষি কোম্পানিগুলো এখনো মাঠের কাজ চালায় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ফোনকল আর স্প্রেডশিটে। ফলে মাঠে কী ঘটছে, প্রধান কার্যালয় তা সময়মতো জানতে পারে না।
মাইকার সফটওয়্যার মাঠকর্মীদের পাঠানো বার্তা, কল ও ছবি নিয়ে সেগুলোকে গোছানো তথ্যে রূপ দেয়। তারপর এআই এজেন্ট সেই পরবর্তী কাজগুলো সারে, যা সাধারণত সুপারভাইজাররা করেন। কোম্পানির চালু ইআরপি ও সিআরএম ব্যবস্থার ওপরেই এটি কাজ করে, সেগুলো বদলাতে হয় না।
মাঠে বিক্রি, ফসল জরিপ, কেনাকাটার পরিকল্পনা, ঋণ যাচাই এবং গুদাম ও পরিবহনের হিসাব রাখায় এটি ব্যবহার হচ্ছে। এপ্রিলে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় চালু হওয়া পণ্যটি এখন আটটি দেশে সক্রিয় বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। গ্রাহকদের মধ্যে বায়ার (Bayer), ওলাম ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস, ইটিজি-প্যারোগেট, বিগহাট ও দায়াতানির নাম জানিয়েছে মাইকা।
প্রতিষ্ঠাতা অর্ণব পান্ডে, তেজস দিনকর ও সিমাস টারডিফ আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের একটি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবসা গড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। টারডিফ এজিফান্ডনিউজকে বলেন, উত্তর আমেরিকায় তাঁদের কোনো গ্রাহকের মাঠদলে থাকে ১০ জন, আর ভারতে কোনো গ্রাহকের মাঠদলে থাকে ৫ হাজার জন। এ কারণেই তাঁরা ক্ষুদ্র কৃষকপ্রধান বাজারেই মনোযোগ রাখছেন।
নতুন অর্থ ব্যয় হবে নতুন পণ্য, প্রকৌশল দল বড় করা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ভারতে বিস্তারে। প্রধান নির্বাহী পান্ডে জানান, এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা কৃষিতে টাকা দিতে দ্বিধায় থাকায় তহবিল তুলতে সময় বেশি লেগেছে। লাখো ক্ষুদ্র কৃষকের কাছ থেকে কেনা বা তাঁদের কাছে বিক্রি করা কোম্পানির জন্য এর মানে, কর্মীদের নতুন কিছু না শিখিয়েই মাঠের ফসল, মজুত ও ঋণের পরিষ্কার ছবি পাওয়া।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ




মন্তব্য
(০)