ভারতের সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (এসইএ) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটির খৈল রপ্তানি ৬৫% কমে ১,৪৮,৬০৯ টনে নেমেছে, আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ৪,২২,৩৮৮ টন। খবরটি দিয়েছে রুরাল ভয়েস। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে, এপ্রিল থেকে জুলাই, রপ্তানি হয়েছে ১১,০৫,৮৩৩ টন, আগের বছরের ১৫,১৬,৯৮১ টনের চেয়ে ২৭% কম।
পতনের মূল কারণ সয়াবিন মিল: জুলাইয়ে এর রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯০% কমেছে। ভারতীয় সয়ামিলের দাম ছিল টনপ্রতি প্রায় ৬১৩ ডলার, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রায় ৪২৮ ডলার; ফলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সস্তা মিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। দেশের পোলট্রি ও পশুখাদ্য শিল্পের জোরালো চাহিদায় রপ্তানির উদ্বৃত্তও কমেছে, আর লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় পথ দীর্ঘ ও ভাড়া বেশি হয়েছে।
এশিয়ার চাহিদায় সরিষার খৈল কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। এপ্রিল-জুলাইয়ে ভারতীয় খৈলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন, ৩,৫৫,৪৮২ টন, আগের বছরের ২,৮৩,৬৪৮ টনের চেয়ে ২৫.৩২% বেশি। দ্বিতীয় বাংলাদেশ, ১,৭২,৮৫২ টন, বেড়েছে ১৭.১৮%; ভিয়েতনাম কিনেছে ১,০৮,০৯৮ টন, বেড়েছে ৪২.৪২%। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি কমেছে ৩১.৩০% এবং থাইল্যান্ডে ৪৩.৬৫%।
বাংলাদেশের পশুখাদ্য কারখানাগুলো মুরগি, মাছ ও গরুর খাদ্যে আমিষের উপাদান হিসেবে ভারতীয় সরিষার খৈলের ওপর নির্ভর করে। এই হিসাব বলছে, ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি কমলেও প্রতিবেশী দেশ থেকে সেই সরবরাহ টিকে আছে।
এসইএ জানিয়েছে, সামনের বাণিজ্য নির্ভর করবে দেশীয় দামের স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের বিঘ্ন কাটার ওপর।
ছবি: United Soybean Board / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: রুরাল ভয়েস





মন্তব্য
(০)