১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী মে মাসের পর থেকে ভারতের ইউরিয়া আমদানির খরচ ৫৭ শতাংশ কমেছে—বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটে এ বছর ফুলে ওঠার আশঙ্কায় থাকা ভর্তুকি বিলে সরকার এতে অর্থবহ স্বস্তি পাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আমদানি করা ইউরিয়ার অবতরণ-মূল্য টনপ্রতি প্রায় ৪০৬ ডলার, যা এ বছরের দামবৃদ্ধির চূড়া মে মাসে ছিল ৯৪৭ ডলার; মার্চ থেকে চলা সার রপ্তানি বিধিনিষেধ চীন শিথিল করায় আগস্টে বৈশ্বিক ইউরিয়ার দাম বছরে ২৩ শতাংশ কম।
রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক দরপত্রে ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টন ইউরিয়া কিনেছে, আর আগস্টের শেষে ভারতের ইউরিয়া মজুত ৭৫ লাখ ১০ হাজার টন—গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৮ শতাংশ বেশি। পতন এসেছে ধাপে ধাপে: ২৭ মে ন্যাশনাল ফার্টিলাইজার্স লিমিটেডের ১৭ লাখ টনের দরপত্র জুনের শুরুতে বন্ধ হওয়ার সময় টনপ্রতি ৪৪৪–৪৪৯ ডলারের প্রস্তাব পায়—সংকটের চূড়ায় এপ্রিলে ভারত যে ৯৩৫–৯৫৯ ডলার দিচ্ছিল, তার অর্ধেকেরও কম; পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন খরচ বাড়ায় সেই দাম চড়েছিল। ওই এক দরপত্রেই প্রায় ৩৪ কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ৬২ লাখ ৪০ হাজার টনের প্রস্তাব আসে।
সার বিভাগ এখনও এ বছর মোট সার ভর্তুকি আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি রুপি বাড়ার প্রত্যাশা করছে; তবে চড়া দাম খরিফ ও রবি পুরো চক্রে থাকলে বাজেটের ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটিতে পৌঁছানোর যে সতর্কবার্তা আগে এসেছিল, তা এখন কম সম্ভাব্য—যদিও বাজার ঘোরার আগেই ভারত বার্ষিক ইউরিয়া আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আগের চড়া দামে বেঁধে ফেলেছিল।
সস্তা আমদানিতে দোকানে কৃষকের দেওয়া সরকার-নির্ধারিত খুচরা দাম বদলায় না—পার্থক্য শুষে নেয় ভর্তুকি; কিন্তু ভর্তুকি কম ছাড়ালে সার মন্ত্রণালয়ের বাজেটে চাপ কমে, সরবরাহে টান বা আমদানিকারক ও সমবায়কে দেরিতে অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া আমদানিকারক ভারতের কেনা-দাম কমা বৈশ্বিক নাইট্রোজেন সার সরবরাহ সত্যিই শিথিল হওয়ার সংকেত—যা বাংলাদেশের নিজের ইউরিয়া দরপত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরিয়ার দাম প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ অনুসরণ করে, তাই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন অস্থিরতা বা চীনের রপ্তানি নীতি কঠোর হলে ধারা উল্টে যেতে পারে; আপাতত রবি বোনার আগে সার পরিকল্পনাকারীদের হাতে কয়েক মাস আগের চেয়ে বেশি জায়গা।
ছবি: Mar11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)