ভারত যে প্রোটিন খায়, তার বেশির ভাগ নিজেই উৎপাদন করে; তবু সার আমদানিতে বিঘ্ন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া আর পুষ্টিকর খাবারে অসম প্রবেশাধিকারের কারণে দেশটির খাদ্যব্যবস্থা ঝুঁকিতে। নতুন প্রোটিন সার্বভৌমত্ব সূচকের বরাতে ডাউন টু আর্থে এ কথা লিখেছেন শগুন (Shagun)। ৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ভারত ১৭তম, ১০০-র মধ্যে স্কোর ৬২.১; অবস্থান "ঝুঁকিপূর্ণ" শ্রেণিতে, "সহনশীল" হতে লাগে অন্তত ৬৫।
১৬ অক্টোবর ফুল সার্কেল বায়োটেকনোলজি সূচকটি প্রকাশ করে; পর্যালোচনা করেছেন চ্যাথাম হাউস, আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইফপ্রি), ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, স্টোনএক্স ও স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। সূচক বলছে, ভারতের দুর্বলতা প্রোটিনজাত খাবার আমদানিতে যতটা, তার চেয়ে বেশি সেগুলো ফলাতে লাগা বিদেশি উপকরণে। মূল্যের হিসাবে দেশের সার সরবরাহের ৬৮.৬ শতাংশ আসে আমদানি থেকে। ভারতে ব্যবহারযোগ্য পটাশের মজুত নেই, রক ফসফেটের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি হয়, আর ইউরিয়া তৈরি হয় আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, "বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, এ বছর তা বন্ধ হওয়াই দেখিয়েছে বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ।"
ডালেই চাপটা স্পষ্ট। ২০২৪-২৫ সালে ভারত রেকর্ড ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টন ডাল আমদানি করেছে, যা দেশের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ; অথচ ডাল চাষের জমি ২০২১-২২ সালের ৩ কোটি ৬ লাখ হেক্টর থেকে ২০২৪-২৫ সালে নেমেছে ২ কোটি ৬৯ লাখ হেক্টরে। সেচের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে, আর মাথাপিছু নবায়নযোগ্য মিঠাপানি ১,০১৪ ঘনমিটার, যা পানি-সংকটের ১,৭০০ ঘনমিটারের সীমার নিচে। সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, আর পেরুর উপকূলে সমুদ্র উষ্ণ হওয়ায় মাছ ও পশুখাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ফিশমিলের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে, সতর্ক করেছে প্রতিবেদনটি।
আরেক ঘাটতি সামর্থ্যে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সোফি ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুমানিক ৫২ কোটি ১০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ জনসংখ্যার ৩৫.৫ শতাংশ, স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেননি। সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশের দেড় গুণ প্রোটিন খায়; দরিদ্র পরিবারগুলো ডিম, মাছ ও মাংস খায় সুপারিশকৃত পরিমাণের মাত্র ৩৮ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শরীরের বৃদ্ধি, কোষ মেরামত এবং হরমোন ও এনজাইম তৈরিতে প্রোটিন অপরিহার্য; ঘাটতি শিশুদের অপুষ্টির কারণ হতে পারে। সূচকের ফলাফল বলছে, ভারতের কাজ হলো প্রোটিন সরবরাহকে বাইরের ধাক্কা থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কম চাপের এবং পরিবারের জন্য আরও সাশ্রয়ী করা।
ছবি: Justinc (red, green and puy lentils) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)