২৫ অক্টোবর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দিবস। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড তৈরি হয় নিউরাল টিউব থেকে; গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এটি ঠিকমতো তৈরি না হলে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের নানা জন্মগত জটিলতা দেখা দেয়, যাকে বলা হয় নিউরাল টিউব ডিফেক্ট। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপ্ত কুমার মুখার্জী প্রথম আলোয় লিখেছেন, জটিল হলেও সমস্যাটি প্রতিরোধযোগ্য।
তাঁর লেখায়, এর পেছনে বড় দুই কারণ মায়ের ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৯-এর ঘাটতি এবং পরিবেশগত দূষণ। নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ৭০ শতাংশ প্রতিরোধ করা যায়, আর এর জন্য চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলেছেন তিনি।
প্রথমটি গর্ভপূর্ব যত্ন: গর্ভধারণের অন্তত তিন মাস আগে থেকে মায়ের পুষ্টির প্রস্তুতি শুরু করা। দ্বিতীয়টি ফলিক অ্যাসিড: থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইমারি কেয়ার সেন্টারে সারা বছর বিনা মূল্যে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট দেওয়া হয়, যা গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকে নিয়মিত খেতে হয়। তৃতীয়টি খাদ্য ফর্টিফিকেশন: আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারে ফলিক অ্যাসিড মেশানো বাধ্যতামূলক করা। চতুর্থটি পারিবারিক ও সামাজিক পুষ্টি সচেতনতা: ঘরে ঘরে শাকসবজি ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
ডা. মুখার্জী জানান, এনেনকেফালি বা অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মানো শিশু বাঁচে না। তবে স্পাইনা বিফিডা বা দ্বিখণ্ডিত মেরুদণ্ড, মেনিনগোসিল ও এনকেফালোসিলের মতো সমস্যার জন্মের পর অস্ত্রোপচারে চিকিৎসা সম্ভব।
সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে নানা জটিলতা দেখা দেয়। তাঁর হিসাবে, প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর মাথায় পানি জমে (হাইড্রোসেফালাস); ৮৫ শতাংশের প্রস্রাবে সংক্রমণ, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব কিংবা হাইড্রোনেফ্রোসিস বা হাইড্রোইউরেটারের কারণে কিডনি অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকে; ৬০ শতাংশের পা বাঁকা হতে পারে; আর ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে চিয়ারি ম্যালফরমেশনে ব্রেন স্টেম নিচে নেমে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
লেখক: ডা. সুদীপ্ত কুমার মুখার্জী, সহযোগী অধ্যাপক, পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা।
ছবি: প্রসবপূর্ব ভিটামিন ট্যাবলেট (প্রতীকী), Ragesoss / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)