আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) বা ইরি কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই), বেশি আমিষ ও বেশি অণুপুষ্টির ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে, লক্ষ্য ভারতের পুষ্টি নিরাপত্তার সমস্যা আর জীবনযাপনজনিত রোগের বাড়তি বোঝা মোকাবিলা। নয়াদিল্লিতে ভারত আন্তর্জাতিক ধান সম্মেলন (BIRC) ২০২৬-এর ফাঁকে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।
ইরির প্রকল্প সমন্বয় বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ড. প্রিয়ব্রত রায় উদাহরণ দেন ডিআরআর ধান ৮১ (DRR Dhan 81) জাতের, যা ভারতের ধান গবেষণা ব্যবস্থায় উদ্ভাবিত এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব রাইস রিসার্চ অবমুক্ত করেছে। তাঁর মতে, প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপযোগী হওয়ায় জাতটির বাজার বাড়ছে: এ থেকে চিড়া, চালের সুজি আর দক্ষিণ ভারতের নানা খাবার তৈরি করা যায়, যা প্রক্রিয়াজাতকারী ও খাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
কম জিআইয়ের বাইরে ইরি বেশি আমিষের জাত, জিঙ্কসমৃদ্ধ জাত ও অন্যান্য জৈবসমৃদ্ধ (বায়োফর্টিফায়েড) ধান নিয়েও কাজ করছে। কোটি মানুষের প্রধান খাদ্যের পুষ্টিমান বাড়িয়ে অপুষ্টি, অণুপুষ্টির ঘাটতি আর অসংক্রামক রোগের উদ্বেগের জবাব দেওয়াই উদ্দেশ্য।
ড. রায় বলেন, পুষ্টি বাড়ানোর সঙ্গে পরিবেশের খরচও কমাতে হবে। গবেষকেরা এমন ধান উদ্ভাবন করছেন, যাতে কম উপকরণ ও কম পানি লাগে এবং মিথেন নিঃসরণ কম হয়, যাতে পুষ্টিসংবেদনশীল চাষ আর সম্পদসাশ্রয়ী উৎপাদন একসঙ্গে চলে।
তাঁর মতে, এই জাতগুলো চাল প্রক্রিয়াজাতকারী, খাদ্য উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের স্বাস্থ্যমুখী চালজাত পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পথও খুলে দেয়। উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে ইরির একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র আছে, যা দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে গবেষণা ও কাজে সহায়তা করে।
ছবি: Laxmisrikanth / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)