কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) বুড়িচং প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, জমি অধিগ্রহণ হলে পরিবারগুলো একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়বে; জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও বলেছেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রামবাসী মোহাম্মদ রবিউল হাসান। তাঁদের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে বাছাই করা জমিগুলো সম্পূর্ণ তিন ফসলি; বছরে একাধিকবার ফসল ফলিয়ে এলাকার বহু দরিদ্র পরিবার সংসার চালায়, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগায়। জমির মালিকদের বেশির ভাগই আর্থিকভাবে অসচ্ছল; কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক, কেউ সাধারণ পেশার মানুষ।
পরিবারগুলোর আশঙ্কা, জমি হারালে কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে আয় কমবে, খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হবে; ২৪টি পরিবারই ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে।
তাঁদের প্রস্তাব, তিন ফসলি জমির বদলে এলাকার পতিত ও অনাবাদি জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়া হোক; তাতে প্রতিষ্ঠানও হবে, কৃষক পরিবারের জীবিকা ও বসতভিটাও রক্ষা পাবে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই জমি বাছাই করেছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রতিবেদনে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য নেই।
প্রতিবেদন: দৈনিক বাংলা।
ছবি: বুড়িচংয়ের কংশনগর গ্রাম, Somunsadak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)