মে মাস থেকে ২০২৬ মৌসুমের খবর দিয়ে আসা ডিটিএনের ‘ভিউ ফ্রম দ্য ক্যাব’ ধারাবাহিকের দুই কৃষক মৌসুম শেষে প্রায় একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: এ বছরের নাইট্রোজেনের অনেকটাই জুগিয়েছে মাটি নিজে, আর চূড়ান্ত রায় দিয়েছে প্রকৃতিই। ২২ বছরে পা দেওয়া ধারাবাহিকটি এ সপ্তাহে এবারের মৌসুম শেষ করেছে।
মেরিল্যান্ডের ফিঙ্কসবার্গে চেসাপিক উপসাগরের অববাহিকায় চাষ করেন ক্রিস উইভার (Chris Weaver)। ১৯৮৬ সাল থেকে তাঁর খামারে চাষ ছাড়াই বপন হয়, আচ্ছাদন ফসলের ব্যবহারও ব্যাপক। জৈব পদার্থ পচে মাটিতে কতটা নাইট্রোজেন ছাড়ছে, তা চারা পর্যায়ের আগে মাটির নাইট্রেট পরীক্ষা আর মৌসুমজুড়ে পাতা পরীক্ষা করে মেপে দেখেছেন তিনি; বাড়তি নাইট্রোজেন লাগেনি। তাঁর হিসাবে প্রতি বুশেল ভুট্টায় নাইট্রোজেন লেগেছে ০.৪৬ থেকে ০.৫ একক, আর কিছু জমিতে আবারও একরপ্রতি ৩৫০ বুশেল ফলন এসেছে। তাপ ও খরার চাপ কমানোর জৈব উদ্দীপক না দেওয়া তুলনামূলক সারিতে একরপ্রতি ১২ থেকে ১৮ বুশেল কম ফলন হয়েছে। তবু তাপের ক্ষতি পুরো এড়ানো যায়নি, তাই খামারের গড় ফলন সামান্য কম হবে বলে তাঁর ধারণা।
সব চেষ্টা সফল হয়নি। দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের ভেতরে ড্রোন দিয়ে বাকউইট, ওট, শণ আর মুলার মিশ্র আচ্ছাদন ফসল বোনার চেষ্টা শুকনো আবহাওয়ায় ব্যর্থ হয়েছে, আবার বীজ ছিটিয়ে চারা দাঁড় করানোর বাড়তি খরচ তিনি এড়াতে চান। ভাঙনপ্রবণ জমিতে এখন তিনি বীজ ছিটিয়ে দিয়ে ফসলের অবশিষ্টাংশের ওপর যান্ত্রিক ক্রিম্পার চালান, এতে অণুজীবের কাজ বাড়ে বলে তাঁর বিশ্বাস। সয়াবিন তোলার পরপরই ১০০ একরে বোনা রাই আগামী গ্রীষ্মে একটি ডিস্টিলারিতে বিক্রি হবে। গ্লাইফোসেট ও প্যারাকোয়াটের মতো আগাছানাশকের ব্যবহার আরও কমাতে জৈব পণ্য পরীক্ষা করছেন তিনি।
মিনেসোটার বেলগ্রেডে সেচের আওতায় প্রচলিত, জৈব ও জিএমওমুক্ত মিলিয়ে প্রায় এক ডজন ফসল ফলান টাইলার রাথ (Tyler Rath)। বৃষ্টি, শিলা, প্রচণ্ড গরম আর খরার পরও তাঁর সেচের ভুট্টা ২০২৫ সালের চেয়ে একরপ্রতি প্রায় ১০০ বুশেল বেশি ফলন দিচ্ছে; তিনি ও তাঁর বীজ প্রতিনিধি এর কারণ হিসেবে মাটিতে নাইট্রোজেনের ভালো খনিজায়নকে দেখছেন। যে প্লটে ছত্রাকনাশক আর একরপ্রতি বাড়তি ৬০ পাউন্ড নাইট্রোজেন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ফলন প্রায় বাড়েনি; অথচ শুধু টার্কির বিষ্ঠা দেওয়া জৈব ভুট্টায় একরপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ বুশেল ফলন হয়েছে।
জুলাইয়ে সেচযন্ত্র চালাতে রাথের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১৪ হাজার ডলারে পৌঁছায়, যা খামারের রেকর্ড। জৈব ভুট্টায় চারা গজানোর সময় আর আট পাতার পর্যায়ে তিনি আগুনের শিখায় আগাছা পোড়ান, পেছনে চলে নিড়ানি যন্ত্র; এ বছর কেনা ক্যামেরা-নির্দেশিত নিড়ানি যন্ত্র ভালো কাজ দিয়েছে। শিম জাতীয় ফসলে তাঁর দুশ্চিন্তা ওয়াটারহেম্প আগাছা, যা ফোমেসাফেন আগের মতো দমাতে পারছে না। প্রথমবার নেভি বিন চাষের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর তিনি বলছেন, আর কখনো নয়। আগামী মৌসুমে তাঁর বড় চিন্তা উপকরণের দাম এমনই থেকে যাওয়া।
ডিটিএনের পক্ষে প্রতিবেদনটি লিখেছেন পামেলা স্মিথ।
ছবি: USDA / Preston Keres / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)