এশিয়ার প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সংকট, ভারতীয় রুপির শক্তিশালী অবস্থান, উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ আর চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশায় দাম ঊর্ধ্বমুখী, পাকিস্তানের বিজনেস রেকর্ডারের বরাতে জানিয়েছে নিউজবাংলা ২৪।
ভারতে টানা দুই সপ্তাহ দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৩৮৭ থেকে ৩৯২ ডলারে বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ডলার; একই মানের আতপ চাল উঠেছে ৩৮৯ থেকে ৩৯৪ ডলারে, দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮৫ থেকে ৩৯০ ডলার। কলকাতার এক রপ্তানিকারকের মতে, বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।
স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিতে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে উৎপাদন কমেছে, আর ফসল পাকার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম ভারতের চাল উৎপাদন কমতে পারে, আর কমার পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভিয়েতনামে বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল টনপ্রতি ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪২০ থেকে ৪৩০ ডলার; ২১ আগস্টের পর এটিই সর্বোচ্চ। নভেম্বর থেকে ফিলিপাইন আবার ভিয়েতনাম থেকে চাল কেনা শুরু করতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বছরের বাকি সময় রপ্তানিতে চাপ থাকলেও ৮০ লাখ টনের লক্ষ্য পূরণ হবে; শুল্ক বিভাগের হিসাবে অক্টোবরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৭১ টন, এ বছরে মোট ৬৬ লাখ টন।
থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম উঠেছে টনপ্রতি ৪৮০ ডলারে, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪৬৫ থেকে ৪৬৮ ডলার। বন্দরে চাল বোঝাইয়ের জাহাজ বাড়া, রপ্তানিকারকদের বাড়তি কেনা, অফ-সিজন ফসল তোলার শেষ পর্যায় এবং বন্যায় ধান কাটা ও সংগ্রহ বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহে চাপ পড়েছে। তবে প্রতিযোগিতা আর বড় ক্রেতাদের চাহিদা কমায় এ বছর ৭০ লাখ টন রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা থাই চাল রপ্তানিকারক সমিতির।
প্রতিবেদন: নিউজবাংলা ২৪-এর বাণিজ্য ডেস্ক, বিজনেস রেকর্ডার অবলম্বনে।
ছবি: সদ্য রোপণ করা ধানক্ষেত (প্রতীকী), Malcolm Manners / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: নিউজবাংলা ২৪





মন্তব্য
(০)