সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

বরেন্দ্রের লাল মাটিতে মিয়াওয়াকি পদ্ধতির বন, সাপাহারে ৫৫ শতাংশ জমিতে ২,৭০০ গাছ

নওগাঁর সাপাহারে জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা তাঁর বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে জাপানি উদ্ভিদবিদ আকিরা মিয়াওয়াকির পদ্ধতিতে দেশি গাছের ঘন বন গড়েছেন; উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় এটিই প্রথম বলে তাঁর দাবি।

বরেন্দ্রের লাল মাটিতে মিয়াওয়াকি পদ্ধতির বন, সাপাহারে ৫৫ শতাংশ জমিতে ২,৭০০ গাছ
পরিবেশ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের গোডাউনপাড়ায় প্রায় ১৫০ বিঘার বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের প্রায় ৫৫ শতাংশ জমিতে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে কৃত্রিম বন গড়ে তুলেছেন জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা। দেশি, ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক মিলিয়ে সেখানে প্রায় ২ হাজার ৭০০ গাছ ও লতাগুল্ম লাগানো হয়েছে; উদ্যোক্তার দাবি, এর মধ্যে এ অঞ্চলে বিলুপ্তপ্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতি আছে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় এটিই প্রথম মিয়াওয়াকি বন বলে দাবি করছেন তিনি।

মিয়াওয়াকি বনায়নের একটি পদ্ধতি, যার উদ্ভাবক জাপানি উদ্ভিদবিদ ও উদ্ভিদ বাস্তুবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আকিরা মিয়াওয়াকি। এতে নির্দিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক উদ্ভিদবৈচিত্র্য বিবেচনা করে স্থানীয় প্রজাতির গাছ ঘন করে লাগানো হয়; মাটির গুণাগুণ উন্নয়ন, জৈব উপাদান যোগ ও উপযুক্ত প্রজাতি বাছাই এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লক্ষ্য অল্প জায়গায় ঘন ও বৈচিত্র্যময় বন, যা পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস আর খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে।

কাজটি সহজ ছিল না। জমি প্রস্তুত, মাটির গুণাগুণ যাচাই, জৈব সার প্রয়োগ, চারা সংগ্রহ, বাঁশের খুঁটি পোঁতা আর মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে জৈব মালচিং করতে হয়েছে। সোহেল রানার দাবি, প্রচলিত বনায়নের চেয়ে এ পদ্ধতিতে গাছ দ্রুত বাড়ে এবং অল্প জায়গায় ঘন বন হয়। দেশে মিয়াওয়াকি পদ্ধতির প্রথম বন হয়েছে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে, জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর করার পর সোহেল রানা ঢাকায় প্রায় ছয় বছর সাংবাদিকতা করেন। পরে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজ জেলা নওগাঁয় ফিরে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক।

বিশেষজ্ঞরা সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও দেখছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, বৃষ্টি তুলনামূলক কম হওয়ায় বরেন্দ্রে মিয়াওয়াকি বন গড়া কিছুটা কঠিন, তবে পরিকল্পিত উদ্যোগে সম্ভব। এমন বন গাছের সংখ্যা বাড়াবে ও কার্বন শোষণে সাহায্য করবে, তবে বৃষ্টি বাড়া বা শুষ্কতা কমার মতো প্রভাব নির্ভর করবে বনের বিস্তৃতি, প্রজাতি, পরিচর্যা ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর। উদ্ভিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক গবেষক মোকারম হোসেন বলেন, আগে ঝোপঝাড় বা দেশি গাছ ছিল এমন ফাঁকা জায়গায় দেশি ও বিলুপ্তপ্রায় গাছের ঘন বন গড়তে মিয়াওয়াকি পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

কার্বন ক্রেডিট থেকে আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় কাজ করা সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশনের (সাফ) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফরহানুল হক বলেন, কৃত্রিম বনভিত্তিক কার্বন ক্রেডিট প্রকল্প জলবায়ু মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ আর কৃষকের বিকল্প আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন: বাংলা ট্রিবিউনের রাজশাহী প্রতিনিধি।

ছবি: কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কনককুন্নুতে বনায়ন (প্রতীকী), BemanHerish / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ট্রিবিউনসূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

চট্টগ্রামের বর্জ্য থেকে দিনে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় করা সমীক্ষা অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের দিনে প্রায় ১,০০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব; জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্পে আগ্রহ জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

দৈনিক আজাদী২৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মতামত

পাহাড় কেটে পাহাড়ের সৌন্দর্য বিক্রি টেকসই নয়: উন্নয়নে প্রকৃতি ধ্বংসের দাম নিয়ে এক গবেষকের লেখা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, সেন্টমার্টিন থেকে সাদাপাথর ও ঢাকার জলাশয়, উন্নয়নের হিসাবে হারানো প্রকৃতির দাম ধরা হয় না; প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় ধরার দাবি তাঁর।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই: ইউরোপ-জাপানের শিক্ষা নিতে বললেন এক গবেষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, দেশের ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্য সংগ্রহ অনানুষ্ঠানিক খাতে; উৎপাদকের দায়বদ্ধতা, দোকানে পুরোনো যন্ত্র ফেরত আর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চান তিনি।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)