যথেষ্ট খাদ্য উৎপাদনের সমস্যা ভারত অনেকটা মিটিয়েছে, কিন্তু পুষ্টিকর খাবার সাশ্রয়ী করার সমস্যা মেটেনি, বলছে কেপিএমজির প্রতিবেদন ফিউচার অব ফুড সিস্টেম: প্রিপেয়ারিং ফর দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার, জানিয়েছে রুরাল ভয়েস। প্রতিবেদনের যুক্তি, এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ না করে সাশ্রয়ী দামে ভোক্তার কাছে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছানো।
দেশটিতে মাথাপিছু খাদ্য উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১,৭২১ গ্রাম, যা নির্ধারিত খাদ্যচাহিদার চেয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি; অথচ প্রকৃত ভোগ সুপারিশকৃত মানের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম। প্রতিবেদনের ব্যাখ্যায় এটি জোগানের নয়, সামর্থ্য ও প্রাপ্যতার সমস্যা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) স্বাস্থ্যকর খাদ্যের খরচ সূচক ব্যবহার করে প্রতিবেদনে হিসাব করা হয়েছে, ২০২৫ সালে জনসংখ্যার প্রায় ৩৫.৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৫২ কোটি ১০ লাখ মানুষ দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেননি। শিশুদের খর্বতা, কৃশতা ও কম ওজনের সমস্যা তাই রয়ে গেছে।
সংরক্ষণ একটি দুর্বল জায়গা। বড় গুদাম নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও পচনশীল পণ্যের জন্য ভারতের হিমাগার সক্ষমতায় আনুমানিক ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টনের ঘাটতি রয়েছে। দেশের মোট সক্ষমতার ৩৮ শতাংশের বেশি উত্তরপ্রদেশে, অথচ উত্তর-পূর্ব ও পাহাড়ি কয়েকটি অঞ্চলে হিমাগার পাঁচটিরও কম; বিদ্যমান হিমাগারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মূলত আলুর জন্য ব্যবহৃত হয়, ফলে ফল, সবজি, দুগ্ধপণ্য ও সামুদ্রিক খাবারের বিশেষায়িত সংরক্ষণ অপর্যাপ্ত।
প্রতিবেদনে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ধরা হয়েছে ফলে ৬ থেকে ১৫ শতাংশ এবং সবজিতে ৪.৮ থেকে ১১.৬ শতাংশ, যা কৃষকের আয় কমায় এবং তাজা পণ্যের দাম বাড়ায়। সম্পদনির্ভর চাষের খরচের কথাও বলা হয়েছে: পাঞ্জাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন রাজ্যের বার্ষিক উত্তোলনযোগ্য সম্পদের ১৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
কেপিএমজি খাদ্য নিরাপত্তা থেকে পুষ্টি নিরাপত্তায় সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবন ও বদলে যাওয়া কৃষি-জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, সৌরচালিত হিমাগার ও ব্লকচেইনভিত্তিক ট্রেসেবিলিটির মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্ত করা এবং ডিজিটাল গণ-অবকাঠামো কাজে লাগানো। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রাজশ্রী সিং।
ছবি: Suyash Dwivedi (potatoes on their way to cold storage in India) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)