ভারতের ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৩৭টি গোত্রের ৫৪৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) সংশোধন করেছে। কোনো কোনো ওষুধের দাম কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। সংশোধিত দাম ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন।
সিদ্ধান্তটি এসেছে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনার পরদিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনদায়ী ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত দাম নিয়ে আদালত ওষুধ কোম্পানি, হাসপাতাল ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে তিরস্কার করে; সেখানে ১১ হাজার রুপির ওষুধ ১ লাখ ৩০ হাজার রুপিতে বিক্রির উদাহরণ উঠে আসে।
সংশোধিত তালিকায় স্তন ক্যানসারের কিছু ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পালবোসিক্লিবের একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও প্যাকের দাম ৪০,৪২১ রুপি থেকে নেমে হয়েছে ২,৭২০ রুপি, কমেছে প্রায় ৯৩.৩ শতাংশ। স্তন ক্যানসারের আরেক ওষুধ অ্যানাস্ট্রোজলের একটি ব্র্যান্ডের দাম ৪৫৮.৮৫ রুপি থেকে কমে হয়েছে ৩৯.৫২ রুপি।
তবে সব ওষুধের দাম কমেনি। ২১ ধরনের ক্যানসারে ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির ওষুধ কিট্রুডার (পেমব্রোলিজুম্যাব) দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ রুপিই থাকছে। রিবোসিক্লিবের (ক্রিক্সানা) দাম ২৪,৪৩৫ রুপিতে অপরিবর্তিত; ট্যাগ্রিসো, টেসেনট্রিক, ডারজালেক্স ও ইমফিনজির এমআরপিতেও কোনো বদল নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সংশোধিত তালিকায় বহুজাতিক কোম্পানির অনেক ওষুধের নাম নেই।
এনপিপিএ ১৩৭টি নন-শিডিউলড ক্যানসাররোধী ওষুধে বিক্রির মার্জিন এমআরপির সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত যে তথ্য জমা দিয়েছে, তার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি।
ক্যানসারের দীর্ঘ চিকিৎসায় ওষুধের খরচই রোগীর পরিবারের সবচেয়ে বড় বোঝা; মার্জিনে সীমা টানার এই সিদ্ধান্ত সেই খরচ কোথায় কতটা কমায়, তা বোঝা যাবে ৯ নভেম্বরের পর। প্রতিবেদনটি সংবাদ প্রতিদিন-এর জন্য করেছেন কিশোর ঘোষ।
ছবি: পালবোসিক্লিবের অণুর মডেল, Fuse809 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন





মন্তব্য
(০)