মানচিত্র, কম্পাস বা জিপিএস ছাড়াই একটি ছোট পাখি এক দেশ থেকে আরেক দেশে উড়ে যায়, মৌসুম শেষে আবার ফিরে আসে একই এলাকায়। জাগো নিউজে পাখির পথ চেনার বিজ্ঞান তুলে ধরেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষার্থী লিমন হেমরম।
পাখির অন্যতম প্রধান দিকনির্দেশক সূর্য। আকাশে সূর্যের অবস্থান দেখে পাখি দিক ঠিক করে, আর গবেষণায় দেখা গেছে এই সূর্য-কম্পাস পাখির শরীরের জৈব ঘড়ির সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ সূর্য কোথায় আছে শুধু তা নয়, দিনের কোন সময়ে সেটি দেখা যাচ্ছে, সেটিও দিক নির্ণয়ে কাজে লাগে।
অনেক পরিযায়ী পাখি ওড়ে রাতে। তখন ভরসা তারার আকাশ। ইন্ডিগো বান্টিংয়ের (নীলকান্তমণি) মতো কিছু গানের পাখি রাতের আকাশে তারাদের আপাত ঘূর্ণনের ধরন থেকে উত্তর-দক্ষিণ চিনে নেয়। গবেষণা বলছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট ‘তারার মানচিত্র’ মুখস্থ রাখে না।
সবচেয়ে রহস্যময় ক্ষমতাটি ম্যাগনেটোরিসেপশন: পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অনুভব করে দিক নির্ণয়। মানুষ এই চৌম্বক সংকেত টের পায় না, কিন্তু পাখি পায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পাখির চোখের ক্রিপ্টোক্রোম নামের আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারে, যার ফলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ও শক্তির পার্থক্য থেকে পাখি নিজের অবস্থান বুঝতে পারে। দীর্ঘ যাত্রায় এটি প্রাকৃতিক কম্পাসের মতো কাজ করে।
সূর্য, তারা, চৌম্বক ক্ষেত্রের পাশাপাশি গন্ধ আর চেনা ভূদৃশ্য মিলিয়েই পাখি পথ খুঁজে নেয়। তবু ঝড়, কুয়াশা, কৃত্রিম আলো, দূষণ, আবহাওয়ার বদল আর মানুষের তৈরি নানা বাধা তাদের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
লেখকের ভাষায়, মানুষ মানচিত্র আঁকে কাগজে, আর পাখি যেন মানচিত্র বয়ে বেড়ায় নিজের শরীরের ভেতরেই।
ছবি: Dr. Ajay Balachandran / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); কোচির আকাশে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)