ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনি হ্রদে এপ্রিলে খাঁচায় ছাড়া প্রায় ৩৫০টি গবেষণাগারে প্রজনন করা স্নো ট্রাউট পোনার অর্ধেকের বেশি মারা গেছে বলে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন কর্মসূচির কর্মীরা। ভীমতালসহ কুমায়ুনের অন্য হ্রদ থেকেও একই রকম খবর এসেছে। স্থানীয়ভাবে আসেলা নামে পরিচিত এই মাছ ২০১০ সাল থেকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে আছে, আর নৈনি হ্রদে প্রায় ৩০ বছর ধরে একে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ধরা হতো।
কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিজ্ঞানীরা বায়োফ্লক ও রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) প্রযুক্তিতে দুই ধাপে মাছগুলোর প্রজনন করান, প্রথম দলটি ছাড়া হয় ২৭ এপ্রিল। জুনে ছোট খাঁচায় ভীমতাল, সাততাল ও নৌকুচিয়াতালেও কাজ শুরু হয়। মৃত্যুর কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা আঙুল তুলছেন হ্রদের দিকেই। স্নো ট্রাউটের জন্য পানির তাপমাত্রা ৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস দরকার, অথচ এ বছরের জুলাইয়ে নৈনি হ্রদে সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে, জানান গোবিন্দ বল্লভ পন্থ কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আশুতোষ মিশ্র। তাঁর কথায়, আট ঘণ্টার বেশি পানি এই তাপমাত্রায় থাকলে স্নো ট্রাউট খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। ২০০৭ সাল থেকে হ্রদটি ৩০টি এয়ারেটর পাইপের ওপর নির্ভরশীল; যে প্রতিষ্ঠান সেগুলো চালায়, তারা বলছে পুরো ব্যবস্থাটি বদলানো দরকার, কিন্তু অনুমোদন ও অর্থ এখনো মেলেনি।
১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত কুমায়ুনের হ্রদগুলোতে স্নো ট্রাউট প্রচুর ছিল। পরে পয়োবর্জ্য, অক্সিজেন কমে যাওয়া আর বিদেশি কমন কার্পের প্রতিযোগিতায় সংখ্যা ধসে পড়ে। ভীমতালে সমান্তরাল একটি উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকা শীতল পানির মৎস্য গবেষণা অধিদপ্তরের (ডিসিএফআর) সুরেশ চন্দ্র বলেন, হ্রদে কমন কার্প যত দিন থাকবে, নৈনি হ্রদে স্নো ট্রাউটের টিকে থাকা অসম্ভব মনে হয়। মিশ্র আরও বলেন, স্নো ট্রাউট আসলে ভাগীরথী ও অলকানন্দার মতো বরফগলা পানির নদীর মাছ, স্থির হ্রদের নয়।
কর্মসূচির প্রধান, কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হরিশ চন্দ্র বিশত বলছেন, হ্রদ এখন উপযোগী এবং কিছু মৃত্যু অনিবার্য। নতুন পোনা যোগ করা হয়েছে, ছয় মাস খাঁচায় রাখার পর অক্টোবরে মাছগুলো খোলা পানিতে ছাড়ার পরিকল্পনা। তবে খাঁচা দেখাশোনা করা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৮০ শতাংশের বেশি পোনা ইতিমধ্যে মারা গেছে।
মাছ নিজে থেকে প্রজনন শুরু করলে তবেই কোনো পুনঃপ্রবর্তন সফল ধরা হয়, আর স্নো ট্রাউটের ক্ষেত্রে তাতে তিন বছরের বেশি লাগে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মত, কৃত্রিম প্রজনন কাজে লাগাতে হলে আগে হ্রদের দূষণ, উষ্ণতা আর শুকিয়ে যাওয়া পানির উৎসের সমাধান করতে হবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সমীক্ষা শর্মা।
ছবি: L. Shyamal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)